শনি. সেপ্টে. 24th, 2022

আজ নীলফামারী হানাদার মুক্ত দিবস

আজকের এই দিনে জয় বাংলা শ্লোগান দিতে দিতে চৌরঙ্গী মোড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে।

সুভাষ বিশ্বাস নীলফামারী প্রতিনিধি :


১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার নীলফামারী হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা নীলফামারী শহরকে হানাদার মুক্ত করে জয় বাংলা শ্লোগান দিতে দিতে চৌরঙ্গী মোড়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে। যে সয়য় মুক্তি কামী সব শ্রেনী পেশার মানুষ নেমে আসে রাস্তায়। বিজয় উল্লাসে কম্পিত নীলফামারীর আকাশ বাতাশ। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে ছাত্র জনতা ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তির সংগ্রামে,এই দিনে নীলফামারী মহকুমা অস্ত্রাগারে রক্ষিত অস্ত্র ছিনিয়ে এনে বড় মাঠে শুরু হয় অস্ত্র নেয়ার প্রশিক্ষণ,এর পর তারা ভারতের কুচবিহার গিয়ে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে আসে।


৫ এপ্রিল ইপিআর,আনসার ও পুলিশ বাহিনীর সদস্য সহ হাজার হাজার জনতা ছুরি,বল্লম,বন্দুক,লাঠি নিয়ে সৈয়দপুর ক্যন্টমেন্ট আক্রমনের জন্য এগিয়ে যেতে থাকে। পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরোধ করার জন্য সৈয়দপুর থেকে নীলফামারী পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে রাংকার করে ইপিআর,পুলিশ ও আনসার সদস্যরা অপেক্ষা করে।৭ এপ্রিল সৈয়দপুর ক্যন্টমেন্ট থেকে পাকিস্তানি সেনারা ট্যাংক কামার ও ভারী অস্ত্র নিয়ে গুলি ছুড়তে ছুড়তে নীলফামারী শহরের দিকে এগিয়ে আসে,এসময় পাকিস্তানি সেনারা রাস্তার দুইপাশে হাজার হাজার ঘর বাড়ি জ¦ালিয়ে পুরিয়ে দেয়। মুক্তিযোদ্ধারা ভারতে সশস্ত্র ট্রেনিং নেওয়ার পর ৬ নম্বর সেক্টরের অধিনে পাকিস্তানি সেনাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে গেরিলা আক্রমন শুরু করেন এবং পাকিস্তানি সেনাদের পরাস্ত করতে শুরু করেন। প্রবল প্রতিরোধের মুখে পাকিস্তানি সেনারা পিছু হটতে শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধদের আক্রমনে ১২ ডিসেম্বর ভোর রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নীলফামারী শহর ছেরে আশ্রয় নেয় সৈয়দপুর সেনানিবাসে,নীলফামারী শহর হয় হানাদার মুক্ত।


র্দীঘ ৯ মাসের মুক্তি যুদ্ধে নীলফামারীর অনেকই শহীদ হয়েছেন। জেলায় রয়েছে ২৫ টি বধ্যভূমি। প্রতি বছর ১৩ ডিসেম্বর এই দিনটিকে নীলফামারী হানাদার মুক্ত দিবস পালন করা হয়। দিনটিকে স্বরনীয় করে রাখতে জেলা মুক্তিযোদ্ধ সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধ সংসদ সন্তান কমান্ডের উদ্দ্যেগে গ্রহন করা হয়েছে কর্মসূচী। সকাল ১০ টায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের এর সামনে জাতীয় ও মুক্তিযোদ্ধ সংসদ পতাকা উত্তোলন,বঙ্গবন্ধু চত্তরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পন,বিজয় সোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচীতে অংশ নিবেন মুক্তিযোদ্ধ,মুক্তিযোদ্ধ সন্তান, জেলা প্রসাশক,সরকারি-রেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকতা-কর্মচারী মুক্তিযোদ্ধের চেতনার সাধারন মানুষ সহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।