মঙ্গল. সেপ্টে. 27th, 2022

এরশাদের আসনে সমঝোতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কাদের

বৃহস্পতিবার বনানীর সেতু ভবনে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা এইচ এম এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আস‌নটি আওয়ামী লী‌গ এবারও জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেবে কি না তা জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা।

জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, “রংপুরের আসনটি আসলে জোটের নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় পার্টির ছিল, এরশাদ সাহেবের আসন।… এখন জাতীয় পার্টি সংসদে বিরোধী দলের আসনে। এখন তারা আলাদাভাবে নির্বাচনে আসলে আসতে পারে, সেটা তাদের ব্যাপার।

“আর যদি জোটগতভাবে আমাদের কাছে আসনটি চায়… তখন আমরা বিবেচনা করব। এই মুহূর্তে আমাদের প্রার্থী আছে। যতক্ষণ পর্যন্ত না আলোচনা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।”

এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি এখনও এ বিষয়ে কোনো আলোচনা করেনি, কোনো সিদ্ধান্তও হয়নি।

তবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের তিন দিন আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রংপুর-৩ আসন নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার জন্য তারা ‘কিছুটা আলাপ আলোচনা’ করেছেন। তবে ঐকমত্য এখনও হয়নি।

“আমরা কিছু বিষয়ে আলোচনা করেছি, উনারাও বিষয়টি বিবেচনা করবেন বলেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত  হয়ত আর দুই চারদিন পর… প্রত্যাহারের দিনের মধ্যেই আমরা নিশ্চিত হব।”

১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শফিকুল গণি স্বপন জেতার পর থেকে রংপুর আসনটি আর কখনও জাতীয় পার্টির হাতছাড়া হয়নি। সর্বশেষ দুটি নির্বাচনে এ আসন থেকে এমপি হয়েছিলেন পার্টি চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ওই নির্বাচনে এরশাদের বিপরীতে কোনো প্রার্থী দেয়নি মহাজোটে তাদের শরিক আওয়ামী লীগ। 

চলমান একাদশ সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা এরশাদ গত ১৪ জুলাই মারা গেলে রংপুর-৩ আসনটি শূন্য হয়। ৫ অক্টোবর ভোটের দিন রেখে উপ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

আওয়ামী লীগ আভাস দিয়েছিল, এবার তারা আর রংপুরে জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে চায় না। উপ নির্বাচনের জন্য রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজুকে প্রার্থী করেছে তারা।

অন্যদিকে নানা নাটকীয়তার পর জাতীয় পার্টি তাদের প্রতিষ্ঠাতা এরশাদের আসনে মনোনয়ন দিয়েছে তার ছেলে রাহগীর আল মাহী সাদকে (সাদ এরশাদ)।

এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ পার্টির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। আর বিএনপি প্রার্থী করেছে জিয়ার আমলের মন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে রিটা রহমানকে, যিনি জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি শফিকুল গণি স্বপনের বোন।

টোল প্রসঙ্গ

বনানীর সেতু ভবনে এদিন পদ্মা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

ওই অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা টোল আদায়ের পরিকল্পনা নিয়েও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে প্রশ্ন করেন।

টোল আদায় হলে যানবাহনের চালকদের বাড়তি ভোগান্তি হবে কি না প্রশ্ন করলে মন্ত্রী বলেন, “আগে যেতেন চার ঘণ্টায়, এখন যাচ্ছেন তিন ঘণ্টায়। সময় বাঁচবে, এখানে লসের কোনো কারণ নেই।

“আর এটা চুক্তি পর্যন্ত গড়াতে অনেক সময় লাগবে। এখনও টোলের বিষয়টি নির্ধারণই হয়নি।… কাজেই এ নিয়ে আগাম মন্তব্যের কোনো কারণ নেই।”

টোল নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, “মহাসড়ক করার কোনো অভিজ্ঞতা তো বিএনপির নেই। যখন ক্ষমতায় ছিল তখন চার লেইনের কোনো রাস্তাই ছিল না। পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল এ সব তারা স্বপ্নেও দেখেনি। এ দেশে সড়ক অবকাঠামোর যে উন্নয়ন হয়েছে, এ সবের বিষয় তাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই।”

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির আন্দোলন জোরদার করার ঘোষণাকে কীভাবে দেখছেন জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আওয়ামী লীগ আন্দোলনে ভয় পায় না।… আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে করলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু আন্দোলনের নামে সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা করলে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে।”

‘এত লেখালেখির কি আছে?’

সম্প্রতি নানা কারণে সমালোচিত ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের সরাসরি বলেন, তিনি এ নিয়ে আর কোনো কথা বলবেন না।

“কারণ প্রধানমন্ত্রী, আমাদের সভাপতি দেশরত্ন শেখ হাসিনা বিষয়টি দেখছেন। এ নিয়ে আর কোনো মন্তব্য নেই।”

এরপর সাংবাদিকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমি একটা বিষয় বুঝি না, একটা ছাত্র সংগঠন নিয়ে এত লেখালেখি কি দেশের অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়?”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।