মঙ্গল. সেপ্টে. 27th, 2022

কাউনিয়ায় মেডিকেলে সেবার মান নিম্ন মুখি আইনসোলেশন বেড আছে পরীক্ষার কোন উপকরণ নেই

স্টাফ রিপোর্টার,কাউনিয়া :

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর জন্য ৩টি ক্যাবিন সহ ১০টি আইসোলেশন রেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসের রোগী কিনা তা পরীক্ষা করার মতো কোন উপকরণ এই মেডিকেলে নেই, নেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। তবে লোক দেখান এই বেড দিয়ে কি হবে ? তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে কাউনিযা মেডিকেলে গিয়ে দেখা গেছে, নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর জন্য সজ্জিত ৩টি ক্যাবিন ও একটি ওয়াডে ১০টি বেড রাখা হয়েছে। উপজেলার প্রায় ৩ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য এই মেডিকেলে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাস সনাক্ত করনের কোন উপকরণ আসে নাই, এমনকি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারও নেই।

বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকে মেডিকেলে সেবার মান নিম্ন মুখি হতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে রোগীদের সাথে ডাক্তাদের হাতাহাতির মতো ঘটনা ঘটেছে। দুই এক জন ভাল ডাক্তার থাকলেও স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তাসহ বেশ কিছু ডাক্তারের ব্যবহারে রোগীরা অসন্তুষ্ট।

চিকিৎসা নিতে আসা রাজমিন্ত্রী বাবু মিয়া জানায়, ডাক্তাররা ভাল ব্যবহার করে না। শিক্ষক মোহাম্মদ হোসেন জানান, তার বুকের ব্যাথা নিয়ে মেডিকেলে আসলে তার সাথে ভাল ব্যবহার করা হয়নি। বিষয়টি ইউএইচও কে জানালে তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। একই অভিযোগ সেবা নিতে আসা আগতো রোগীদের।

উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আঃ হান্নান জানান,আমি শুনেছি বর্তমানে ডাক্তাররা রোগীদের সাথে খারাপ আচরণ করছে। বর্তমানে করোনার কারনে রোগী কমে গেছে। ফলে এই চিত্র একটু কম। ডাক্তারদের চেম্বারে বেশীরভাগ সময় ঔষধ কম্পানীর রিপ্রেজেন্টেটিভ বসে থাকতে দেখা গেছে। ইনডোরের রোগীদের খাদ্য তালিকা অনুযায়ী খাদ্য দেয়া হয়না। বেশীর ভাগ সময় নি¤œমনের খাবার পরিবেশন করা হলেও কর্তৃপক্ষ তা দেখেন না।

মেডিকেলে হাজার হাজার টাকা বরাদ্দ আসলেও পিপিই এর জন্য উপজেলা পরিষদের মুখাপেক্ষি হয়ে রয়েছে। একজন মন্তব্য করে বলেছেন, ডাক্তার সাহেব হাজার হাজার টাকা ইনকাম করেন দেশের এই সময় ১ হাজার টাকা খরচ করে একটা পিপিই কিনতে পারেন না। রাষ্ট্র তাদের ডাক্তার বানিয়েছেন জনগনের টাকায়, সেই দায় থেকেও তারা এই কাজটি করতে পারেন কিন্তু তা করছেন না, চেয়ে আছে সরকার কখন দেবেন। কুর্শা ব্রাহ্মণ পাড়ায় লকডাউন হওয়া রোগীটিকে মেডিকেলে এনে আইনসোলেশন বেড রেখে চিকিৎসা দিতে পারে কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা করছে না। ডাক্তার সাহেবরা নিজেদের বাঁচার চিন্তাই বেশী।

এব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ মীর হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি নতুন যোগদান করেছি, সেবার মান বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি। দেশের এই সংকট ময় অবস্থায় ডাক্তারদের মানুষিকতার পরিবর্তন আশা করছে এলাকার মানুষ।