শনি. সেপ্টে. 24th, 2022

ঝুকি নিয়েই চলছে ট্রেন, ঝুকিপুর্ণ তিস্তা রেল ব্রিজ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

নর্দান বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ে কোম্পানি ১৮৫৩ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ ভারতে প্রথম রেলওয়ে সার্ভিস চালু করে। এর পর ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে দুর্ভিক্ষকালীন সাহায্য-সহযোগিতা প্রদানের জন্য কোলকাতা থেকে পাবর্তীপুর হয়ে উত্তরে রেলপথ সম্প্রসারণের কার্যক্রম শুরু করে।
একই খ্রিষ্টাব্দে পার্বতীপুর থেকে একটি মিটারগেজ রেলপথ রংপুর শহর হয়ে কাউনিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। পরে তা লালমনিরহাটের সাথে যুক্ত হয়। এ সময় তিস্তা নদীর উপর সেতু নির্মাণ সম্ভব না হওয়ায় নদী পারাপারের জন্য বাষ্পীয় ইঞ্জিনযুক্ত ফেরীর ব্যবস্থা করা হয়। অতঃপর ১৮৯৯- ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দে তিস্তা নদীর উপর রেলওয়ে সেতুটি নির্মিত হয়। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে অন্য একটি সেতু থেকে স্প্যান, গার্ডার ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তা মেরামত করা হয়। অনেকদিন পর্যন্ত সেতুটি কেবলমাত্র রেল যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হতো।
কিন্তু তৎকালিন সময়ে সড়ক যোগাযোগের জন্য বিকল্প একটি সেতু নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল হবে বলে এর উপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ চালুর সম্ভাব্যতা ও উপযুক্ততা যাচাইয়ের পর ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দের ৪ মার্চ আনুষ্ঠানিক ভাবে সেতুটির উপর দিয়ে রেলওয়ের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ শুরু হয় । তখন থেকে তিস্তা রেলওয়ে সেতুর উপর দিয়ে রেল ও সড়ক উভয় যোগাযোগ-ই অব্যাহত রয়েছে। সেতুটি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার সাথে রংপুর সহ অন্যান্য জেলার সংযোগ রক্ষাকারী হিসেবে ২০১২ সালে নতুন তিস্তা সড়ক সেতু নির্মনের পূর্ব পর্যন্ত গুরতত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ব্র্রিজটির একাংশ রংপুরের কাউনিয়ায় এবং আর একাংশ পড়েছে লালমনিরহাট জেলায়। ১৯৭৮ সালে এই ব্রিজের গ্যারান্টি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। ফলে যে কোন মুর্হূতে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা । জানা যায়, বৃটিশ আমলে নির্র্মিত হওয়া এই সেতুর ওপর দিয়ে রংপুর, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট গামী ২২টি ট্রেন চলাচল করে। সেই সাথে মালবাহী ট্রেনও রয়েছে। সাবেক উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও প্রেসক্লাব কাউনিয়ার সভাপতি মোস্তাক আহম্মেদ জানান,এই অঞ্চলের মানুষ ২০১২ সালে নতুন তিস্তা সড়ক সেতু পেয়েছে এখন অপেক্ষা করছে নতুন রেল ব্রিজের।
কাউনিয়ার কাশফুল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি নুরে মাহামুদুল হাসান পিন্টু জানান,সেতুর গ্যারন্টি মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে অনেক আগে। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত রেল ব্রিজ র্নির্মাণ করার।
কাউনিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইসচেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক জানান, এই নদীর ওপর নতুন ব্রিজ করার জন্য কাউনিয়া উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সংশিষ্ট্য দপ্তরে আদেন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল লালমনিরহাট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন করে স্টিলের টাইফ প্লেট ও কাঠের প্লেট স্থাপন করায় বর্তমানে কোন রকমে চলছে ব্রিজটি। কিন্তু এভাবে আর কতদিন তাই এলাকাবাসির দাবি অদি দ্রুত যেন একটি নতুন রেল সেতু নির্মান করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।