সৌদি আরব থেকে ফিরছেন সুমি

সৌদি আরবে নিয়োগকর্তার নির্যাতনের বিবরণ ভিডিওতে তুলে ধরে বিশ্বব্যাপী সংবাদ শিরোনাম হওয়া বাংলাদেশি সুমি আক্তারকে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
শুক্রবার সকাল সোয়া ৭টায় এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) কে এম সালাউদ্দিন জানিয়েছেন।
সৌদি আরবের নাজরান শহরের শ্রম আদালতে নিষ্পত্তির পর সুমির দেশে আসার পথ তৈরি হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে জেদ্দা কনস্যুলেট।
ওই আদালত সুমির কফিলের (নিয়োগকর্তা) দাবিকৃত ২২ হাজার সৌদি রিয়াল পরিশোধের আবেদন নামঞ্জুর এবং সুমিকে ‘ফাইনাল এক্সিট’ (দেশে ফেরার অনুমতি) প্রদানের আবেদন মঞ্জুর করে।
কনস্যুলেট জানিয়েছে, শ্রম আদালতের আদেশের পর সুমি আক্তারকে তার বর্তমান কফিল তাৎক্ষণিকভাবে ‘ফাইনাল এক্সিট’ দিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেদ্দা শহর থেকে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নাজরান শহরের শ্রম আদালতে গৃহকর্মী সুমি আক্তারের বিষয়ে শুনানি হয়। শুনানিতে সুমি আক্তার, তার নিয়োগকর্তা ও কনস্যুলেট প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
এ মাসের শুরুতে সুমির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেশে ফেরার আকুতি জানান তিনি।
ভিডিওতে সুমি অভিযোগ করেন, ‘ভালো কাজের’ কথা বলে এনে এখন তার ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে।
এরপর জেদ্দা কনস্যুলেটের হস্তক্ষেপে সুমিকে নিয়োগকর্তার বাড়ি থেকে নিয়ে আসে পুলিশ। কিন্তু পাওনা ২২ হাজার রিয়াল পাওয়ার আগে তাকে ‘ফাইনাল এক্সিট’ দেবেন না বলে তখন জানিয়েছিলেন তার কফিল।
এ বছরের প্রথম ১০ মাসে সুমির মতো অন্তত ৯৬০ জন নারী সৌদি থেকে দেশে ফিরে এসেছেন । এই নারীদের বেশিরভাগই নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করছেন তাদের নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে অন্তত ৪৮ জন নারীর মৃতদেহ এসেছে সে দেশ থেকে।
নারী অধিকার সংগঠনসহ বিভিন্নজনের দাবির পর মঙ্গলবার জাতীয় সংসদেও সৌদি আরবে নারীকর্মী পাঠানো বন্ধের দাবি উঠেছে।
সংসদ সদস্যদের প্রশ্নবানে জর্জরিত প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, “গৃহকর্মীর বিষয়ে আপনারা যতটা চিন্তিত তার থেকে বেশি সরকার চিন্তিত। এ ব্যাপারে অনেক পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।”