বুধ. এপ্রিল 24th, 2024

হত্যাকান্ডে দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবীতে আওয়ামীলীগের সংবাদ সম্মেলন ! নিহতের ঘটনায় ৯৬ জনকে আসামি করে মামলা ! আটক-৭

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে সোনা মিয়া (৫৫) নামে দলের এক কর্মীকে ধারালো অস্ত্রদিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। বুধবার দুপুরে নিহত সোনা মিয়ার বড় ছেলে আখতারুজ্জামান (২৯) বাদী হয়ে কাউনিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক ও হারাগাছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদসহ ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করে কাউনিয়া থানায় মামলা করেছেন। এই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুন্তাছের বিল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সাত জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন,হারাগাছ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মফু সালাম (৪৮), সাবেক সদস্য মোজাম্মেল হক (৫৫), কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান (৪৫), মাইদুল ইসলাম (৫০) ও আওয়ামী লীগের কর্মী আবদুল গফফার (৪৫), আব্দুল জালিল(৩৫), মোঃ আব্দুল আউয়াল (৪০)। গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত কাউনিয়া উপজেলা ও হারাগাছ ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছয় জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে মামলা রেকর্ড হওয়ার পর তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এদিকে আওয়ামীলীগ দলীয় কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বুধবার(২৬এপ্রিল)বিকেলে রংপুর নগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্যে কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদ আলী বাবুলের নামে স্লোগান না দেওয়ায় তার অনুসারী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ও হারাগাছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা রাজু আহমেদ পরিকল্পিত ভাবে দলের কর্মী সোনা মিয়াকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। লিখিত বক্তব্যে কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান বলেন, পদ বঞ্চিত নামধারী ও বিতর্কিত কিছু আওয়ামী লীগের কয়েকজনকে সাথে নিয়ে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ও তার বড়ভাই হারাগাছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা রাজু আহমেদ কাউনিয়া আওয়ামীলীগের রাজনীতিকে বাধা গ্রস্থ ও নেতৃত্ব শুন্য করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। গত ১১ মার্চ তাদের নেতৃত্বে একদল উচ্ছৃঙ্খল সন্ত্রাসী কুর্শা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে হামলা করে। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ও তার বড়ভাই রাজু আহমেদ এর নেতৃত্বে কাউনিয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠেছে।

গত ২৪ এপ্রিল হারাগাছের খানসামা ঈমামগঞ্জ স্কুল মাঠে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে আসেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। সেখানে জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদ আলী বাবুলের নাম বাদ দিয়ে শুধু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম মায়ার নামে স্লোগান দেওয়ায় আব্দুর রাজ্জাকের সমর্থকরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লে অনুষ্ঠান পন্ড হয়ে যায়। সন্ধ্যায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খানসামা হাট এলাকায় সোনা মিয়া(৫৫)নামে দলের এক কর্মীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে আব্দুর রাজ্জাক ও রাজু আহমেদের সমর্থকরা।

এই হত্যাকান্ডসহ দলের অভ্যন্ডরীণ কোন্দলের জন্য অভিযোগ করে দলীয় কর্মী সোনা মিয়া হত্যাকান্ডে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আশরাফুল আলম, জয়নাল আবেদীন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাদের, জমসের আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, উপজেলা সদর বালাপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী, টেপা-মধুপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল ইসলাম, হারাগাছ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইয়াছিন আলী ।

প্রসঙ্গত,গত সোমবার বিকেলে হারাগাছে কাউনিয়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় সভা করতে উপজেলার খানসামারহাটের ইমামগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে যান বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগদলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য টিপু মুনশি। মন্ত্রী মাঠে এলে নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মায়া ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক বিবদমান দুটি গ্রুপের মধ্যে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাগবিতন্ডা, হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মতবিনিময় সভা না করে চলে যান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এর পর রাত আটটার দিকে খানসামার হাট এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে সোনা মিয়া নিহত হন। সোনা মিয়া উপজেলার হারাগাছের নাজিরদহ এলাকার মৃত আবদুল খালেকের ছেলে। তিনি হারাগাছ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য। সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার উত্তেজনা সহ থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে হয়েছে। কাউনিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক ও হারাগাছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ অভিযুক্ত এই দুজনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে দুজনের নম্বরই বন্ধ পাওয়া গেছে। কাউনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমি হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। রংপুর জেলা পুলিশ সুপার মোঃ ফেরদৌস আলী চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।