শনি. মার্চ 2nd, 2024

এশিয়া কাপে ‘অনেক দূর’ যাওয়ার আশা বাংলাদেশ অধিনায়কের

শিয়া কাপের প্রস্তুতিপর্বে একদমই ছিলেন না সাকিব আল হাসান। তবে সবার সঙ্গে কথা বলে যতটুকু জেনেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, তাতে তিনি সন্তুষ্ট। এই প্রস্তুতির তত্ত্বাবধানে ছিলেন যিনি, সেই কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহে তো মহাখুশি। প্রত্যাশার বেলায় অবশ্য দুজনই সতর্ক। দুজনেরই ভাবনায় আগে গ্রুপ পর্ব উতরানো। এই লক্ষ্য পূরণ হলে এরপর বড় কিছুর আশা দেখছেন অধিনায়ক সাকিব।

এশিয়া কাপের আগে এবার দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নিবিড় অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। বেশির ভাগ দিনই সংবাদমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত ছিল না এই প্রস্তুতি পর্ব। নিজেদের মতো করে নির্বিঘ্নে অনুশীলন করেছে দল। অনুশীলনের ধরন সম্পর্কে তাই ধারণা নেওয়ার উপায় ছিল না।  

এশিয়া কাপ খেলতে যাওয়ার আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে কোচ হাথুরুসিংহে জানালেন ধাপে ধাপে কেমন ছিল দলের প্রস্তুতি।

“প্রস্তুতি নিয়ে আমি খুবই খুশি। শুরুতে ফিটনেস (পরীক্ষা) ও মেডিকেল পরীক্ষা দিয়ে খুব ভালোভাবে শুরু করি আমরা। এরপর সাত দিনের মতো স্কিলে উন্নতির অনুশীলন হয়েছে। পরের সাত দিনে ট্যাকটিক্যাল ও দলে নির্দিষ্ট ভূমিকা ধরে অনুশীলন হয়েছে।”

“এরপর একটি প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে আমরা শেষ করেছি অনুশীলন। অনেক দলেই এরকম প্রস্তুতি ম্যাচ দেখেছি আমি, এসব ম্যাচে ‘ইনটেনসিটি’ ধরে রাখা খুব কঠিন। কিন্তু প্রথম বার (ব্যতিক্রম)…. এই ম্যাচ এদিক থেকে বিরল যে, এখানে ওরা সবাই শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করেছে, যতক্ষণ না আমি শেষ করতে বলেছি। রাত প্রায় সাড়ে ১০টায় শেষ করেছি আমরা। সব মিলিয়ে তাই আমি খুশি।”

দেশে যখন অনুশীলন করেছে দল, সাকিব তখন কানাডায় গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি খেলে পরে শ্রীলঙ্কায় খেলেছেন এলপিএল। এরপর দেশে ফিরেও শুরুতে ব্যস্ত ছিলেন ব্যক্তিগত কাজে। অনুশীলনের শেষ দিনে তিনি মাঠে আসেন। তবে অংশ নেননি সেদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে। বরং কোচ ও দলের সঙ্গে বৈঠকে এশিয়া কাপের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

আলোচনা থেকে প্রস্তুতি সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পেয়েছেন সাকিব। সেই ভরসাতেই প্রথম লক্ষ্য পার করে এরপর ধাপে ধাপে আরও বড় অর্জনের দিকে এগোতে চান অধিনায়ক।

“কোচ যেটা বললেন যে, খুব ভালো প্রস্তুতি হয়েছে। আমিও যতদূর কথা বলেছি এবং জেনেছি যে, সবাই খুব ভালো প্রস্তুত অবস্থায় আছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইবাদত আমাদের দলের অংশ হতে পারছে না। দলের গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ ছিল সে। সেই জায়গা থেকে আমাদের জন্য এটা একটু ধাক্কা। তারপরও যে ধরনের প্রস্তুতি এবং স্কোয়াড আমাদের আছে, আমার মনে হয় যে আমরা অনেক দূর যেতে পারব।”

<div class="paragraphs"><p>কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহে ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। </p></div>

কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহে ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। 

 |

ছবি: রতন গোমেজ/বিসিবি 

“তবে প্রথম ব্যাপার যে, আমাদেরকে প্রথম দুটি ম্যাচ খেতে হবে এবং কোয়ালিফাই করতে হবে (পরের ধাপের জন্য)। আমরা একটা একটা ম্যাচ ধরে আসলে এগোতে চাই। এমন নয় যে একবারেই চিন্তা করছি কোথায় যাব। প্রতিটি ম্যাচ আমরা চিন্তা করব এবং ওভাবেই প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করব, ভালো ফল করার চেষ্টা করব। যদি সুযোগ থাকে, সব ম্যাচেই জয়ের চেষ্টা করব।”

এশিয়া কাপ খেলতে রোববার দুপুরে ঢাকা ছাড়বে বাংলাদেশ দল। গ্রুপ পর্বে আগামী বুধবার পাল্লেকেলেতে সাকিবদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, শনিবার লাহোরে লড়াই আফগানিস্তানের বিপক্ষে।

গত এশিয়া কাপে এই দুই দলের কাছে হেরেই গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সেটি ছিল টি-টোয়েন্টি সংস্করণের টুর্নামেন্ট। ওয়ানডেতে তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী। তবে লঙ্কানদের বিপক্ষে তাদের মাঠে ২২ ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশের জয় স্রেফ দুটি। সবশেষ ৫ ম্যাচে নেই জয়। আফগানিস্তান তো গত মাসেই বাংলাদেশে এসে জিতে নিয়েছে ওয়ানডে সিরিজ।

কোচ হাথুরুসিংহে তাই মনে করিয়ে দিলেন, গ্রপ পর্ব পার হওয়ার চ্যালেঞ্জটিও অনেক কঠিন।

“অবশ্যই আমাদের প্রথম লক্ষ্য দ্বিতীয় রাউন্ডে (সুপার ফোর) খেলা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলা শ্রীলঙ্কায়, দেশের কন্ডিশনে তারা খুব ভালো দল। এরপর আফগানিস্তানের সঙ্গে খেলব আমরা পাকিস্তানে। সম্প্রতি ওরা আমাদের এখানে খেলেছে এবং সিরিজ জিতেছে। চ্যালেঞ্জ তাই অবশ্যই অনেক বড়। তবে আমরাও চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত।”

প্রথম ম্যাচটি শ্রীলঙ্কায় খেলে পরের ম্যাচের জন্য বাংলাদেশকে যেতে হবে পাকিস্তানে। চার দিনের মধ্যে দুটি ম্যাচ, এর মধ্যে আছে ভ্রমণ। বাড়তি সেই চ্যালেঞ্জ জয়েও আশাবাদী কোচ।

“এটা অবশ্যই নতুন চ্যালেঞ্জ, কারণ সাধারণত কোনো টুর্নামেন্টের ভেতর এক দেশে থেকে আরেক দেশে ভ্রমণ করতে হয় না। তবে দুই দলের জন্যই এটা বাস্তবতা। আমরা সেই চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে আছি।”