বৃহস্পতি. মে 16th, 2024

বগুড়া থেকে রংপুর হয়ে নীলফামারী পর্যন্ত ১৫০কিলোমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সঞ্চালনের পাইপলাইন স্থাপনের কাজ প্রস্তুত


নিতাই রায় ঃ
বগুড়া থেকে রংপুর হয়ে নীলফামারী পর্যন্ত ১৫০ কিলোমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস সঞ্চালনের পাইপলাইন স্থাপনের কাজ প্রস্তুত করা হয়েছে।দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে শেষ হয়েছে কমিশনিং প্রক্রিয়া এখন অপেক্ষা বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস সরবরাহের। রংপুরে পাইপলাইনের মাধ্যমে চলতি মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলক গ্যাস সরবরাহের প্রস্ততি নিয়েছে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)।প্রাথমিকভাবে কয়েকটি শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে।সরবরাহ করা হবে বগুড়া থেকে রংপুর হয়ে সৈয়দপুর পর্যন্ত ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপে উচ্চচাপ সম্পন্ন গ্যাস।
জিটিসিএলের তথ্য মতে, ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে বগুড়া-রংপুর-সৈয়দপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। বগুড়া-রংপুর-সৈয়দপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ’ প্রকল্পটি সরকারি ও গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ অর্থায়নে ১ হাজার ৩৭৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবান করছে।এ গ্যাস সরবরাহে পাইপলাইন পাড়ি দিয়েছে ৬টি নদী ও ২টি খাল। নদী ও খালের দূরত্ব আড়াই কিলোমিটার।প্রকল্পে ইপিসি ভিত্তিতে সৈয়দপুরে ১০০ এমএমএসসিএফডি (মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ফিট পার ডে) ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সিজিএস (সেন্ট্রাল গ্যাস সাপ্লাই),রংপুরে ৫০ এমএমএসসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন একটি টিবিএস (টাউন বর্ডার স্টেশন) এবং পীরগঞ্জে ২০ এমএমএসসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন একটি টিবিএস স্থাপন করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৫ সালে পুরোপুরি ভাবে গ্যাস সরবরাহ করা হবে।
পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড জানায়, গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইনের পাশাপাশি বিতরণ লাইন নির্মাণের পৃথক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।প্রকল্পের আওতায় ১০০ কিলোমিটার থাকবে বিতরণ লাইন।রংপুর শহরে ৪৪ কিলোমিটার, পীরগঞ্জে ১০ কিলোমিটার এবং নীলফামারী ও উত্তরা ইপিজেড এলাকায় ৪৬ কিলোমিটার অংশ রয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্যাস কোম্পানি মিটারিং স্টেশন, ডিআরএস স্থাপনে বিদেশ থেকে মালামাল আমদানি, জমি অধিগ্রহণ, ভূমির উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে তারা ঠিকাদারও নিয়োগ করেছে।আগামী ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে এসব কাজ সম্পন্ন হবে।
বগুড়া-রংপুর-সৈয়দপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আমিরুজ্জামান জানান, খুব দ্রæত সময়ের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে পাইপলাইনের মাধ্যমে দুয়েকটি কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে স্থাপিত পাইপলাইনের কোনো ক্রটি থাকলে সেটি চিহ্নিত করা যাবে।রংপুর বিভাগে শিল্প-কারখানায় গ্যাসচালিত জেনারেটর নেই।শুরুতে গ্যাস জেনারেটর রয়েছে এমন শিল্প-কারখানা পাবে বলে আশা করছি।
জিটিসিএল’র প্রকল্প কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউল হক বলেন,গত ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাইপলাইনে পরীক্ষামূলকভাবে গ্যাস সঞ্চালন করে দেখেছি। তবে কোনো কলকারখানা বা শিল্পোদ্যোক্তাকে এখনো গ্যাস সরবরাহ সংযোগ দেওয়া হয়নি। পাইপলাইনে সরবরাহ সঞ্চালন সংযোগ ঠিকঠাক রয়েছে কিনা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও রংপুর, নীলফামারী,পীরগঞ্জ শহর ও গ্যাস বিতরণ পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ ফজলুল করিম বলেছেন,আমরা পাইপলাইনে সরবরাহ কৃত গ্যাস বিতরণ কার্যক্রমে রয়েছি।গ্যাস বিতরণ কার্যক্রমে আমাদের প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত।গ্যাস বিতরণের জন্য মিটারিং স্টেশন, ডিআরএস স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।আগামী ৫ থেকে ৬ মাসের মধ্যে এসব কাজ সম্পন্ন হবে।সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকা কিংবা শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে।
রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোঃ আকবর আলী বলেন,পীরগঞ্জ থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত মহাসড়কের পাশে অনেক দেশি-বিদেশি শিল্পোদ্যোক্তা প্লট ক্রয় করে গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছেন।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন, সরকার ও গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (জিটিসিএল) যৌথ অর্থায়নে এক হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।গ্যাস সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করতে পাইপ লাইন বসানো ও অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়েছে।বর্তমানে ১শ’৫০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন প্রস্তুত হয়েছে।নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুরো কাজ শেষে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে।