শনি. জুন 19th, 2021

বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে রকেট হামলা

মার্কিনবিরোধী বিক্ষোভে ইরাকের প্রভাবশালী শিয়া ইমাম মোকতাদা আল সদরের সমর্থকরা। ছবি: রয়টার্স
ইরাকের রাজধানী বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি রকেট ছোড়া হয়েছে, এর মধ্যে একটি রকেট দূতাবাসের ক্যাফেটেরিয়ায় আঘাত হেনেছে।

অপর দুটি রকেট দূতাবাসের অল্প দূরে গিয়ে পড়েছে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

নিরাপত্তা সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রোববার বাগদাদের সুরক্ষিত এলাকা গ্রিন জোনের ভিতরে ছোড়া পাঁচটি কাতিউশা রকেটের মধ্যে অন্তত একটি মার্কিন দূতাবাসে আঘাত হেনেছে, এতে তিন জন আহত হয়েছে।

রয়টার্স রকেট হামলার এ ঘটনাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে।

রোববার রাতে বাগদাদের গ্রিন জোনে পাঁচটি কাতিউশা রকেট আঘাত হেনেছে, এক বিবৃতিতে ইরাকের সামরিক বাহিনী এটি নিশ্চিত করলেও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কিছু জানায়নি।

এতোদিন বাগদাদের মার্কিন দূতাবাসের আশপাশে রকেট নিক্ষেপ করা হলেও সরাসরি দূতাবাস কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ বিরল ঘটনা। সম্ভবত গত কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম এ ধরনের হামলায় মার্কিন দূতাবাসের কর্মী আহত হলো।

ইরাকের কারবালায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে শ্লোগান দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা। ছবি: রয়টার্স

ইরাকের কারবালায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে শ্লোগান দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা। ছবি: রয়টার্সকোনো গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি। কিন্তু এর আগে এ ধরনের হামলাগুলোর জন্য ইরাকের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদি হামলার নিন্দা করেছেন। এ রকম হামলার ধারা অব্যাহত থাকলে তা ‘ইরাককে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করতে পারে’ বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, “আমাদের কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা দিতে তাদের বাধ্যবাধকতা পরিপূরণ করার জন্য ইরাকের সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই আমরা।” 

ইরাকে সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস ও ইরাকের যেসব সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন সৈন্যরা আছে সেগুলোকে লক্ষ্যস্থল করা হচ্ছে বলে বিবিসি জানিয়েছে। সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দ্রুত অবনতি হয়েছে এবং ইরাক এই দুই শক্তির মাঝে পড়ে গেছে। 

৩ জানুয়ারি বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেমানিকে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ওই হামলায় ইরাকের কাতাইব হিজবুল্লাহ মিলিশিয়া গোষ্ঠীর কমান্ডার আবু মাহদি আল মুহান্দিসও নিহত হন।

এর প্রতিশোধ হিসেবে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান আছে ইরাকের এমন দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।

ইরাকের প্রভাবশালী শিয়া ইমাম মোকতাদা আল সদর ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্যদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে মার্কিনবিরোধী বিক্ষোভের আয়োজন করছেন। এর আগে সদরের সমর্থকরা সরকারবিরোধী ব্যাপক প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছিল। কিন্তু সোলেমানি নিহত হওয়ার পর অনুসারিদের যুক্তরাষ্ট্রের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সদর।        

তার এ আহ্বানের পর শনিবার থেকে তার অনুসারিরা সরকারবিরোধী অবস্থানগুলো থেকে সরে যেতে শুরু করে।