শনি. এপ্রিল 20th, 2024

মানবিক বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও অর্থনৈতিক সমতায় বিশ্বাসী ছিলেন: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাঙালি ও বাংলাদেশ একে অপরের পরিপূরক ও অভিন্ন সত্তা। তিনি বলেন, ‘মানবিক বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও অর্থনৈতিক সমতায় বিশ্বাসী ছিলেন।’

আজ শনিবার বঙ্গভবনের দরবার হলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত অ্যানিমেশন মুভি ‘মুজিব ভাই’ প্রদর্শনের আগে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপ্রধান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জীবন-কর্ম, ত্যাগ, তিতিক্ষা—সবগুলো মানবীয় গুণাবলির সমন্বয়ে বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন অনন্য বাঙালি।’ বঙ্গবন্ধুর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপের সব কটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ লাভ করে। তাঁকে করে তুলেছিল অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও অন্যান্য মানবিক গুণের সমন্বয়ে এক অনন্য মানুষ।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, চরিত্রের বিভিন্ন নাটকীয়তা, মানবিক গুণাবলি, শৈশব ও কৈশোরের মানবিক কর্মকাণ্ডসহ সবকিছুর সমন্বয়ে বঙ্গবন্ধু ছিলেন এক অনন্য বাঙালি। রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধু কতটা অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন, তাঁর প্রমাণ তিনি কলকাতায় দাঙ্গার সময়ও দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে স্মৃতিচারণা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি জাতির পিতাকে নিয়ে গর্ববোধ করি। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল ছয়বার ওনার সান্নিধ্য পাওয়ার। দুবার স্বাধীনতার পূর্বে, চারবার স্বাধীনতার পরে। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার শেষ দেখা হয় ১৯৭৫ সালের জানুয়ারি মাসে। বঙ্গবন্ধু আমাকে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) পাবনা জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেছিলেন।’

রাষ্ট্রপতি আশা করেন, আইসিটি (তথ্য ও প্রযুক্তি) বিভাগ নির্মিত ‘মুজিব ভাই’ অ্যানিমেশন মুভি জাতির পিতার জীবন ও কর্ম এবং আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সক্ষম হবে। ‘মুজিব ভাই’ অ্যানিমেশন মুভিটি ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ থেকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশে’ রূপান্তরের একটি প্রয়াস উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মুভিটির পরিচালক, প্রযোজক, কলাকুশলীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। ‘মুজিব ভাই’ মুভিটিতে বঙ্গবন্ধুর জীবনযাত্রা, সংগ্রাম ও দেশের মানুষের মধ্যে তাঁর প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা ও মর্মস্পর্শী প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী অধ্যাপক রেবেকা সুলতানা, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সম্মানিত সচিব, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।