
কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের নিজপাড়া-গাজীরহাট জোড়া দীঘির সেতুর মুখে জমে থাকা কচুরিপানা অপসারণ করে জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেতুর মুখে বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা আটকে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়। ফলে নিজপাড়া দোলা, সাপ খাওয়ার দোলা ও আটানী গিরাই দোলাসহ তিনটি এলাকার প্রায় এক হাজার একর কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সময়মতো আমন ধানের চারা রোপণ করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে উপজেলা বিএনপি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কচুরিপানা অপসারণের উদ্যোগ নেয়।
মঙ্গলবার সকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আগস্ট মাসের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁকে উৎসর্গ করে নিজপাড়া-গাজীরহাট জোড়া দীঘির সেতুর মুখে আটকে থাকা কচুরিপানা অপসারণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সফিকুল আলম সফি।
এ সময় তিনি বলেন, “বিএনপি কৃষিবান্ধব দল। কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘব এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে আমরা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামিনুর রহমান, আলমগীর চৌধুরী লিটন, বালাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহজাহান মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান আলী, সমাজসেবক শহিদুল ইসলাম, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইউনুস আলী, সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর আলম, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুল ইসলাম, প্রভাষক শাহীন মিয়া, বালাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-কোষাধ্যক্ষ ওয়াহেদুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আব্দুল গফুরসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
স্থানীয়রা জানান, রাজেন্দ্র বাজার এলাকা থেকে প্রবাহিত বৃষ্টির পানি গাজীরহাট জোড়া দীঘির সেতু, তালুক সাহাজ আটানী সেতু ও সাপ খাওয়ার দোলা সেতুর নিচ দিয়ে নিষ্কাশিত হয়। কিন্তু প্রবল স্রোতে ভেসে আসা কচুরিপানা তিনটি সেতুর মুখে আটকে পড়ায় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আইল বেঁধে মাছ চাষ, মাল্লি ও খড়া জাল, রিং জাল এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেও পানি প্রবাহ ব্যাহত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ প্রাকৃতিক পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পাশাপাশি কৃষকের স্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সমাজসেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।