
কাউনিয়া(রংপুর)প্রতিনিধি
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিশ্বর গ্রামে পানি নিষ্কাশনের একটি পাইপ ভরাট করে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কয়েকটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই বাড়িঘর, উঠান ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, একই এলাকার মাহাম বাজারের বাসিন্দা মো. বাদল মিয়া আগে স্থাপিত পানি নিষ্কাশনের একটি পাইপ মাটি দিয়ে ভরাট করে দেন। ফলে বৃষ্টির পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের পক্ষে মো. আনিসুর রহমান ভুট্টু কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে ভারী বৃষ্টির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পানি নেমে যেত। বর্তমানে দিনের পর দিন পানি জমে থাকছে। অনেক বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না, শিশুদের চলাচল ও শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘসময় পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রবও বেড়েছে। এতে ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেও কার্যকর উদ্যোগ না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত উপজেল প্রশাসনের শরণাপন্ন হতে হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. বাদল মিয়া বলেন, আগে সেখানে একটি পানি নিষ্কাশনের পাইপ স্থাপন করা হয়েছিল। পাশের বাড়ির লোকজন খাল ভরাট করার সময় পাইপটি মাটিচাপা পড়ে বন্ধ হয়ে যায়।
বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যা শেফালী বেগম ও ইউপি সদস্য মহির উদ্দিন বলেন, ওই এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য আগে একটি পাইপ স্থাপন করা হয়েছিল। সেটি নষ্ট বা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সড়ক তলিয়ে যাচ্ছে এবং বাড়িঘরে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনসার আলী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে আগে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি পাইপ স্থাপন করা হয়েছিল। সেটি মাটি দিয়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় এলাকায় পানি জমে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, জনস্বার্থে ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশনের পথ দ্রুত পুনরুদ্ধার না হলে চলমান বর্ষা মৌসুমে শুধু কয়েকটি পরিবার নয়, আশপাশের আরও এলাকা জলাবদ্ধতার কবলে পড়তে পারে। তাই দ্রুত তদন্ত, পানি নিষ্কাশনের পথ পুনরুদ্ধার করে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রসাশনের সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন তারা।