
পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ী ইউনিয়নের সুবিদ দাখিল মাদ্রাসায় কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৩০০ জন। তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নেই বললেই চলে। নেই পর্যাপ্ত বেঞ্চ-ডেস্ক, শ্রেণিকক্ষে নেই নিয়মিত পাঠদানের পরিবেশ। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির ভবনেও দৃশ্যমান কোনো সাইনবোর্ড নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষা কার্যক্রম অনেকটাই নামসর্বস্ব হয়ে পড়েছে। অথচ শিক্ষক-কর্মচারীরা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসছেন এবং সরকারি বেতন-ভাতা পাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদ্রাসাটির শ্রেণিকক্ষগুলোতে রয়েছে মাত্র তিন-চারটি বেঞ্চ। অধিকাংশ সময় শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা পড়ে থাকে। নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় কক্ষগুলোতেও ধুলোবালি জমে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, চার-পাঁচজনের বেশি শিক্ষার্থীকে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে দেখা যায় না।
শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও আসবাবপত্র নিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও দেখা গেছে অসঙ্গতি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, বাস্তবে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতি খুবই কম। অনেকটা রেজিস্টার ও খাতা-কলমেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমাবদ্ধ। তবে অপর এক শিক্ষক দাবি করেন, ওই দিনও প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় উপস্থিত ছিল। মাত্র তিন-চারটি বেঞ্চে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কীভাবে বসে ক্লাস করেছে—এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট মাওলানা আনারুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের মাদ্রাসায় তিন-চারটি বেঞ্চ থাকার কথা সঠিক নয়। রেজিস্টার অনুযায়ী এখানে ৩০০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। নিয়ম মেনেই প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে।”
তবে মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. শরিফুল ইসলামের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। তিনি বলেন, “আমি চার-পাঁচ মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সার্বিক বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। বাস্তবে চার-পাঁচজনের বেশি শিক্ষার্থী আমি কখনো দেখিনি। খাতা-কলমের হিসাবের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। বিষয়টি নিয়ে আমি ভাবছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর পরিদর্শন ও প্রশাসনিক নজরদারি না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। সরকারি অর্থে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে প্রকৃত শিক্ষার্থী সংখ্যা, শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠদান কার্যক্রম এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে জরুরি তদন্ত প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন তারা।
তারা দ্রুত আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে এবং শিক্ষার নামে চলা যেকোনো অনিয়ম বন্ধ হবে।