
মো এমরান হোসেন, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আবদুল মালেক উকিল হলে সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের ছাত্রকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান সিফাতের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা হামলার শিকার হওয়ার দাবি করেছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত আবদুল মালেক উকিল হল ও পকেট গেট এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। এতে সাবেক সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম হাসান মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাত আনুমানিক দুইটার দিকে হলের একটি কক্ষের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডার সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে তা ছাত্রদলের দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিহান জানান, শফিক নামে এক শিক্ষার্থী তাঁর সিট অন্য এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে পরিবর্তন করেছিলেন। পরে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাব্বির হোসেন শান্ত এতে আপত্তি জানালে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সিফাতের সঙ্গে অন্যদের বাক্বিতণ্ডা হয়।
দিহানের অভিযোগ, একপর্যায়ে সিফাত উত্তেজিত হয়ে উপস্থিতদের মারতে উদ্যত হন এবং সোনাপুর বাজারে দেখলে “টুকরা টুকরা করে ফেলবেন” বলে হুমকি দেন। পরে সবাই নিজ নিজ কক্ষে ফিরে গেলেও কিছুক্ষণ পর আবার উত্তেজনা সৃষ্টি হলে দ্বিতীয় দফায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাশেদের গায়ে সিফাত হাত তোলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে আনিসুর রহমান সিফাত দাবি করেন, সিট নিয়ে সামান্য বাক্বিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ফিশারিজ বিভাগের রায়হান কবির রাশেদ ও অর্থনীতি বিভাগের তানভীর ভূঁইয়াসহ কয়েকজন তাঁকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেন।
সিফাত আরও বলেন, “ছাত্রলীগের স্টাইলে পেশিশক্তির রাজনীতি নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত অবগত নন। খোঁজ নিয়ে পরে জানাতে পারবেন বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আ ফ ম আরিফুর রহমান বলেন, ঘটনার বিষয়ে হল প্রভোস্ট বডি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। আনসার সদস্যদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “প্রক্টরিয়াল বডির সভা ডাকা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”