
মোঃ সৈয়দ আলী পীরগাছা রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগাছায় ৩ আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে প্রকাশ্যে দিনদুপুরে ৪ জন দিনমজুরের বসতবাড়িতে হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও নজিরবিহীন লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। দুষ্কৃতকারীরা ঘরবাড়ি কুপিয়ে ও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রীসহ ৬টি দামি গবাদিপশু (গরু) ও রান্নার জিনিসপত্র পর্যন্ত লুট করে নিয়ে গেছে।গত রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের দামুশ্বর গ্রামে এ তাণ্ডবলীলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ সৈয়দ আলী (৬৪) বাদী হয়ে ৩৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৪০ জনকে আসামি করে পীরগাছা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আসামিদের সাথে ভুক্তভোগী পরিবারের জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে ঘটনার দিন সকালে ছাওলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও পাওটানাহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পশু চিকিৎসক মোঃ রেজাউল করিম, ৪ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুকুল মিয়া এবং ৫ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আইয়ুব হোসেনের (আউয়াল) নেতৃত্বে ৭০-৮০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।হামলাকারীরা প্রথমে সিরাজুল ইসলামের বসতবাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে। প্রাণের ভয়ে পরিবারের লোকজন প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিলে সন্ত্রাসীরা ৪টি ঘর ও আসবাবপত্র কুপিয়ে ও ভেঙে আনুমানিক ৩ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। এ সময় তারা ঘরে থাকা নগদ ১ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়।এরপর হামলাকারীরা ২০০ গজ দূরে অবস্থিত সৈয়দ আলী, এরশাদ হোসেন ও রুবেল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাণ্ডব চালায়। সেখানে তারা আরও ৮টি ঘর, বেড়া, মোটরসাইকেল ও ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা রুবেল মিয়ার ঘরের স্টিলের বাক্স ভেঙে নগদ ৩ লাখ টাকা, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার ও একটি মূল পাসপোর্ট বই লুট করে। পাশাপাশি এরশাদ হোসেনের ঘর থেকে সেলাই মেশিন, সেচ মোটর, স্যাঁলো মেশিন ও ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভিসহ চাল-ডাল ও রান্নার পাতিল পর্যন্ত নিয়ে যায়।স্থানীয়রা জানান, সন্ত্রাসীরা চার বাড়ি থেকে মোট ৬টি বিদেশী ও দেশী গরু জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায় এবং হামলার পর একটি গরু জবাই করে ভূড়িভোজের আয়োজন করে। পুরো এলাকা পাহারা দিয়ে তাণ্ডব চালানোয় আতঙ্কে স্থানীয়দের কেউ বাধা দিতে এগিয়ে আসতে সাহস পাননি।ভুক্তভোগী সৈয়দ আলী ও সিরাজুল ইসলাম আকুতি জানিয়ে বলেন, "আমাদের পরনের কাপড় ছাড়া ঘরে থাকার বা খাওয়ার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। সন্ত্রাসীরা চাল-ডাল থেকে শুরু করে রান্নার হাঁড়ি-পাতিল পর্যন্ত নিয়ে গেছে।"অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী ও রেজাউল করিম ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে দাবি করেন, তারা ঘটনার সময় এলাকায় ছিলেন না। তবে আরেক অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মুকুল মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।