
মোঃ সৈয়দ আলী পীরগাছা রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগাছায় নারীদের ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে সরকারি অর্থে নির্মাণ করা হয়েছিল ‘মহিলা মার্কেট’। তবে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার তিনটি মহিলা মার্কেটের অধিকাংশ দোকানেই নেই নারী উদ্যোক্তা। কোথাও পুরুষরা ব্যবসা করছেন, কোথাও দোকরঘর ব্যবহৃত হচ্ছে গোডাউন হিসেবে।
আবার কোনো কোনো দোকান দীর্ঘদিন বন্ধ পড়ে থাকলেও পরিশোধ হয়নি ভাড়া।এতে নারীরা ব্যবসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।উপজেলার পারুল ইউনিয়নের দেউতি বাজার, কান্দি ইউনিয়নের কান্দির হাট ও ছাওলা ইউনিয়নের পাওটানা হাটে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় এসব মহিলা মার্কেট নির্মাণ করা হয়। তিনটি মার্কেটে মোট দোকান রয়েছে ৩০টি।সরেজমিনে দেউতি মহিলা মার্কেটে দেখা যায়, ১২টি দোকানের মধ্যে চার-পাঁচটি দোকান পুরুষরা পরিচালনা করছেন।
কয়েকটি দোকান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে মালামাল রাখার গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সূজয় কসমেটিক স্টোর’ নামের একটি দোকানও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। দোকানটির বরাদ্দপ্রাপ্ত শ্রীমতী মায়া রাণীর কাছে ভাড়া বকেয়া রয়েছে বলে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের তথ্য জানা গেছে।স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা শাপলা বলেন, ‘ভাঙা ঘরে দোকান করি। রাতে চোর-ডাকাতের ভয় থাকে। তাই দোকানেই থাকতে হয়। মহিলা মার্কেটে দোকান পেলে নিরাপদে ব্যবসা করতে পারতাম।
এটি তো আমাদের নারীদের জন্য করা হয়েছে।’স্থানীয়দের অভিযোগ, মহিলা মার্কেটের কয়েকটি দোকান প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের মালামাল রাখার গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি মার্কেটের সামনেও গড়ে উঠেছে বিভিন্ন দোকানপাট।স্থানীয় সিরাজুল ইসলাম নামের এক ব্যাক্তি বলেন, নারীদের অগ্রগতি ও স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে সরকারের নেওয়া উদ্যোগটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত নারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনটি মহিলা মার্কেটের ৩০টি দোকানের বিপরীতে মোট ২ লাখ ২১ হাজার ৩০০ টাকা ভাড়া বকেয়া রয়েছে।এর মধ্যে দেউতি মহিলা মার্কেটের ১২টি দোকানে বকেয়া ১ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ টাকা, কান্দি মহিলা মার্কেটের আটটি দোকানে ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা এবং পাওটানা হাট মহিলা মার্কেটের ১০টি দোকানে ৫৫ হাজার ১০০ টাকা।বকেয়া ভাড়া ও দোকান বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জেমি জানান,বকেয়া ভাড়া পরিশোধের জন্য অফিস থেকে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
যারা এখনো বকেয়া পরিশোধ করেননি, তাদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’দেউতি মহিলা মার্কেটের ৩ নম্বর দোকান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।স্থানীয়দের প্রশ্ন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে নির্মিত মার্কেটের দোকান যদি প্রকৃত নারী উদ্যোক্তাদের কাজে না আসে এবং বছরের পর বছর ভাড়া বকেয়া পড়ে থাকে, তাহলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে?তাদের দাবি, দ্রুত বকেয়া ভাড়া আদায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দোকানগুলোর বরাদ্দ পুনর্বিবেচনা এবং নীতিমালা অনুসরণ করে প্রকৃত নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হোক।