
মো. গোলাম কিবরিয়া,
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের একসময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও দর্শকপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। অকাল প্রয়াণের প্রায় তিন দশক পর তার মৃত্যু নিয়ে দায়ের করা হত্যা মামলায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে কয়েকজনের নাম। এ মামলায় অভিযুক্তদের একজন খল অভিনেতা ডনকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ।
দীর্ঘ ২৯ বছর পর গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা আলমগীর হোসেন হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় অভিনেতা ডনকে ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে সালমান শাহকে হত্যায় সরাসরি অংশ নেওয়া এবং চুক্তি বাস্তবায়নের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা অভিযোগ অনুযায়ী, সালমান শাহর শাশুড়ি লতিফা হক লুসি এবং কথিত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার একটি চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তি বাস্তবায়নে অভিনেতা ডনসহ কয়েকজনকে ভাড়া করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর গুলিস্তানের একটি বারে ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদ ও রেজভী আহমেদের মধ্যে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা ও অর্থ লেনদেন নিয়ে গোপন বৈঠক হয়।
পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ডনসহ অন্য অভিযুক্তরা সালমান শাহর ইস্কাটনের বাসায় প্রবেশ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সালমান শাহকে ঘুমন্ত অবস্থায় চেপে ধরার পর তার স্ত্রী সামিরা তাকে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অচেতন করেন এবং পরে তার শরীরে বিষাক্ত ইনজেকশন প্রয়োগ করা হয়—এমন অভিযোগও রয়েছে মামলার নথিতে।
এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, সালমান শাহর মৃত্যুর পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের উদ্দেশ্যে মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
মামলার অন্যতম প্রধান সাক্ষী রেজভী আহমেদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও এসব অভিযোগ উঠে এসেছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তার আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক চলে আসছে।
অভিনয়জীবনে অল্প সময়েই সালমান শাহ বাংলা চলচ্চিত্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার অভিনয়, পোশাক ও আধুনিক উপস্থাপনা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। তার অকাল মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনসহ সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।
দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য নিয়ে মানুষের আগ্রহ কমেনি। নতুন করে হত্যা মামলা এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুরোনো সেই রহস্য আবারও আলোচনায় এসেছে।
সত্য একদিন না একদিন প্রকাশ পায়—তবে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার কারণে সেই সত্য উদঘাটনে সময় লাগতে পারে। এখন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং মামলায় আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা।