৩৩ বছর হোটেলে কাজ করা সাবুল এখন শয্যাশায়ী, উন্নত চিকিৎসায় সহায়তার আকুতি

IMG-20260823-WA0003

দিনাজপুরের দশমাইল এলাকার পরিচিত মুখ শাহ আলম ওরফে সাবুল। দীর্ঘ প্রায় ৩৩ বছর ঐতিহ্যবাহী বাহারুল হোটেলে সিনিয়র ওয়েটার হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। বিভিন্ন জেলা ও এলাকার মানুষের কাছে পরিচিত এই মানুষটি গত দুই বছর ধরে অসুস্থতার কারণে হোটেলে কাজ করতে পারছেন না। বর্তমানে নিজ বাড়িতে শয্যাশায়ী হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

সাবুলের বাড়ি দিনাজপুর সদর উপজেলার রামডুবিহাটের দক্ষিণ দিকে কালিকাপুর মণ্ডলপাড়ায়। দীর্ঘদিন হোটেলে কাজ করার সুবাদে দশমাইলসহ আশপাশের এলাকার মানুষের সঙ্গে তার গড়ে ওঠে পরিচিতি ও সুসম্পর্ক।

২২ আগস্ট শনিবার স্থানীয় মানবিক শিক্ষক মোনায়েম খান অসুস্থ সাবুলের খোঁজ নিতে তার বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি সাবুলকে বিছানায় অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান এবং তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাবুল বর্তমানে ডায়াবেটিস, কিডনি ও হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তিনি এখন প্রায় শয্যাশায়ী। কথা বলতেও তার কষ্ট হয়। এমনকি তরল খাবার ছাড়া অন্য কোনো শক্ত খাবার খেতে পারেন না।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালিয়ে গেলেও অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় ও উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। সাবুলের চিকিৎসার জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাবুল ছিলেন অত্যন্ত হাসিখুশি ও মানবিক মানুষ। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা এবং ভালো আচরণ করাই ছিল তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। দীর্ঘ ৩৩ বছর হোটেলে কাজ করে তিনি অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। বর্তমানে তার এমন অসুস্থতার খবর শুনে স্থানীয়দের মধ্যে দুঃখের সৃষ্টি হয়েছে।

সাবুলের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন দশমাইলের বাহারুল হোটেলে কাজ করলেও বর্তমানে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হোটেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তেমন কোনো খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। মোবাইল ফোনে অসুস্থতার কথা জানানো হলেও হোটেল মালিক তাকে দেখতে আসেননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় গ্রামবাসীরা বলেন, সাবুল সারা জীবন মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেছেন। এখন তিনি কঠিন অসুস্থতায় ভুগছেন। তিনি আরও কিছুদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে চান। এই অবস্থায় সমাজের বিত্তবান মানুষ ও সরকারি সহযোগিতা তার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।
অসুস্থ সাবুলের পরিবারের দাবি, সরকারি সহায়তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিত্তবান মানুষের আর্থিক সহযোগিতা পেলে তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যা পেলে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে পরিবারটি আশা করছে।
অসুস্থ সাবুল বলেন, “আমি সবার সহযোগিতা চাই। সরকার ও সমাজের বিত্তবানরা বড় ধরনের আর্থিক সহযোগিতা করলে উন্নত চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়ার আশা করি। পাশাপাশি সবার কাছে আমার জন্য দোয়া চাই।”
অসুস্থ সাবুলের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সহযোগিতার পাশাপাশি সমাজের মানবিক ও বিত্তবান মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

Reporter: