খুলনার মিয়াপাড়া-টুটপাড়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ, ১০০ গজের মধ্যে আক্রান্ত ২০ জনের বেশি

IMG-20260820-WA0014

মো. আল-মাহফুজ শাওন, খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা মহানগরীর মিয়াপাড়া ও টুটপাড়া এলাকায় দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। বিশেষ করে মিয়াপাড়া নতুন রাস্তা ও শহীদ আজমল হোসেন সড়কসংলগ্ন এলাকায় অল্প পরিসরের মধ্যে ২০ জনের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মিয়াপাড়া নতুন রাস্তা ও শহীদ আজমল হোসেন সড়কের আশপাশের প্রায় ১০০ গজ এলাকার মধ্যেই ২০ জনের বেশি ব্যক্তি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। শুধু এ এলাকাতেই নয়, আশপাশের বিভিন্ন মহল্লাতেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অনেক পরিবারের একাধিক সদস্য জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নগরবাসীর অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানি, অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নোংরা রাস্তাঘাট ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এ পরিস্থিতি ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, খুলনা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও অনেক এলাকায় তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। পাশাপাশি বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা এবং বিভিন্ন পাত্রে পানি জমে থাকায় এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে।

সচেতন মহল মনে করছে, শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতলসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নগরীতে মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা জরুরি।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ড্রেন ও জলাবদ্ধ স্থান পরিষ্কার এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে।

তাদের প্রত্যাশা, সিটি করপোরেশন, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও নগরবাসী সম্মিলিতভাবে কাজ করলে মিয়াপাড়া-টুটপাড়াসহ পুরো খুলনা নগরীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে প্রশাসনের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Reporter: