তিস্তা নদীতে ‘একক নজরানা’ বাঁশের ভুঁড়া, ফরিদপুরের পথে যাত্রা

IMG-20260909-WA0014

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইসলামী মহাসম্মেলন-২০২৭ ও ওরশ উপলক্ষে তিস্তা নদীর সড়ক সেতু এলাকা থেকে ‘একক নজরানা’ বাঁশের ভুঁড়ার যাত্রা শুরু হয়েছে। পতাকা ও রঙিন কাগজে সজ্জিত ভুঁড়াটি দেখতে নদীর পাড়ে ভিড় করেন স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকালে তিস্তা সড়ক সেতু এলাকায় এসে অবস্থান নেয় সাজসজ্জায় সজ্জিত বাঁশের ভুঁড়াটি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভুঁড়াটিকে ঘিরে আশেকানদের জিকির-আজকার ও ধর্মীয় কার্যক্রম চলে। এ সময় কাউনিয়া ও লালমনিরহাট এলাকার আশেকানরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী নজরানা প্রদান করেন। পরে সন্ধ্যায় দোয়া শেষে ভুঁড়াটি ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

স্থানীয় আশেকানরা জানান, প্রতিবছর ফরিদপুর দরবার শরীফে বিশ্ব ইসলামী মহাসম্মেলন ও ওরশ উপলক্ষে তিস্তা নদীর এ এলাকা থেকে ‘একক নজরানা’ বাঁশের ভুঁড়া যাত্রা করে। নদীপথে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সংগৃহীত নজরানা দরবার শরীফে পৌঁছে দেওয়া হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তির আশায় তাঁরা এতে অংশ নেন।

তাঁরা আরও জানান, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে নদীপথে দীর্ঘ যাত্রা করলেও এ আয়োজনকে ঘিরে প্রতিবছরই আশেকানদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

তিস্তা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, “আশেকানরা বিশ্বাস করেন, দরবারে গিয়ে তাঁদের আত্মার প্রশান্তি মেলে। এটি তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের অংশ।”

এদিকে, তিস্তা নদীতে পতাকা ও রঙিন সাজসজ্জায় সজ্জিত বাঁশের ভুঁড়া আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকায় কৌতূহল সৃষ্টি হয়। নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ নদীর পাড়ে এসে ভুঁড়াটি দেখতে ভিড় করেন। এতে তিস্তা নদীর পাড়জুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

Reporter: