নীলফামারী সদর উপজেলা পরিষদের গেট রাত ৯টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বন্ধ, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

IMG-20261008-WA0003

রাব্বি রহমান নীলফামারী

এলাকাবাসীর চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক উপজেলা পরিষদের গেট দিয়ে যাওয়ায়, প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত গেট বন্ধ রাখায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা পরিষদের ভেতরে একটি মসজিদ রয়েছে। সেখানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিশুদের আরবি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে আশপাশের এলাকার অনেক শিশু নিয়মিত এই পথ দিয়ে উপজেলা পরিষদের মসজিদে যাতায়াত করে।
এছাড়া এ এলাকার বেশিরভাগ মানুষ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। অনেকেই নীলফামারী ইপিজেডসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। একই সঙ্গে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করতে হয়।
কিন্তু রাত ৯টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের প্রধান গেট বন্ধ থাকায় সকালবেলা শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে তাদের সময় ও ভোগান্তি দুটোই বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা পরিষদের পাশ দিয়ে যাতায়াতের জন্য জুম্মাপাড়ার ভেতর দিয়ে একটি বিকল্প রাস্তা রয়েছে। তবে রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের জন্য উপযোগী নয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও কর্মজীবী মানুষের জন্য ওই রাস্তা ব্যবহার করা বেশ কষ্টকর।
এলাকাবাসীর দাবি, উপজেলা পরিষদের নিরাপত্তার স্বার্থে গেট বন্ধ রাখার প্রয়োজন থাকলে রাতের অন্য কোনো সময়ে গেট বন্ধ করা যেতে পারে। কিন্তু সকাল ৯টা পর্যন্ত গেট বন্ধ রাখার কারণে স্কুলগামী শিশু ও কর্মজীবী মানুষের সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে।
তাদের ভাষ্য, অনেক চাকরিজীবীকে সকালেই নিজ নিজ কর্মস্থলে পৌঁছাতে হয়। উপজেলা পরিষদের গেট বন্ধ থাকায় ঘুরে বিকল্প পথে যেতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় লাগে। ফলে অনেকেই নির্ধারিত সময়ে অফিস বা কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেন না।
স্থানীয়রা আরও বলেন, উপজেলা পরিষদ একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান। সাধারণ মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে এখানে প্রতিদিন যাতায়াত রয়েছে। তাই জনসাধারণের চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গেট বন্ধের সময় পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
এ অবস্থায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে সকাল ৯টা পর্যন্ত গেট বন্ধ না রেখে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী সময়ে গেট বন্ধ রাখার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
তাদের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত এমন একটি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে উপজেলা পরিষদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত হয় এবং একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াতও নির্বিঘ্ন থাকে।

Reporter: