বিশ্বনাথে দুই গ্রামের সংঘর্ষ: চেয়ারম্যানের ছেলেসহ ৩৩ জনের নামে পাল্টা মামলা
সিলেট জেলা প্রতিনিধি :
আব্দুল হামিদ রানা
সিলেটের বিশ্বনাথে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে লামাকাজী ইউনিয়নের ভুরকী ও ইশবপুর গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার একদিন পর ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার ওপর হামলার অভিযোগে মামলা দায়েরের পর এবার চেয়ারম্যানপুত্রসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর ২০২৬) বিশ্বনাথ থানায় মামলাটি দায়ের করেন ইশবপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সাজ্জাদুর রহমান সেজু। মামলার নম্বর-১, তারিখ ০২/১০/২০২৬। মামলায় আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ভুরকী গ্রামের বাসিন্দা এবং লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার ছেলে রায়হান আহমদ অভিসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার নামীয় আসামিরা হলেন—
ভুরকী গ্রামের মৃত আব্দুল মালিকের ছেলে আব্দুল ওয়াহিদ টিটন (৪১), মদরিছ আলীর ছেলে কবির আলী (৩০), মৃত কালা মিয়ার ছেলে মাসুক মিয়া (৪৬), চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়ার ছেলে রায়হান আহমদ অভি (২৪), মৃত মদরিছ আলী গেদার ছেলে রজাক আলী (৩৭), মৃত হাবিবুর রহমান কটনের ছেলে লুৎফুর রহমান বাবুল (৫৩), মৃত আব্দুল হান্নানের ছেলে আব্দুল হাই (৪২), মৃত আসদ আলীর ছেলে আসকির আলী (৪৪), মৃত হানিফ উল্লাহর ছেলে নুরুল হক (৬০), মৃত মাহমুদের ছেলে ইসরাইল আলী (৪৫), মৃত আফতাব মিয়ার ছেলে আজির উদ্দিন (৬২), লুৎফুর রহমান বাবুলের ছেলে রবিন রহমান (২৩), মৃত আত্তর আলীর ছেলে আব্দুল আহাদ (৪১), মৃত সমুজ আলীর ছেলে আব্দুল ওয়াহিদ (২৯), মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে জাকের আহমদ (২৪), মৃত ফয়জুর রহমানের ছেলে মঈন উদ্দিন (৫৫) ও নূর উদ্দিন (৩৫), মৃত আব্দুল গণির ছেলে শাহিন আহমদ (৩৬), মৃত উস্তার আলীর ছেলে মেহেদী হাসান সাহেদ (২৮), ফয়জুর রহমানের ছেলে নজির আহমদ (২৮), মৃত আলকাছ আলীর ছেলে আতিকুর রহমান (৩৫), মৃত মদরিছ আলীর ছেলে সুজন আলী (২৩), মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে নুরুল আমিন (৪৬), মৃত মদরিছ আলীর ছেলে জমির হোসেন (২৮), বশিরপুর গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে নুরুল আমীন (৫২), দৌলতপুর ইউনিয়নের লেইনকাটা নোয়াগাঁও গ্রামের নাজিম উদ্দিন (৩০), ভুরকী গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে আবু বক্কর (৩৫), এরশাদ মিয়ার ছেলে সামছুল হক (২৮), আলতাব আলীর ছেলে সোলেমান আহমদ (৩১), মৃত চান্দ আলীর ছেলে রহমত আলী মামুন (৪৩), মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে রাসেল আহমদ (২৮), মৃত আফতাব মিয়ার ছেলে আব্দুল বারী স্বপন (৫০) এবং মৃত আইন উল্লাহর ছেলে আব্দুল্লাহ (৩২)।
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ সেপ্টেম্বর (রবিবার) দুপুরে বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নের ভুরকী ও ইশবপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুরকী গ্রামের বাসিন্দা ও লামাকাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়া এবং ইশবপুর গ্রামের হাজী সফির আলীর মধ্যকার জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের লোকজন মাইকযোগে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন ধলা মিয়াসহ উভয় গ্রামের অন্তত ৩০ জন আহত হন বলে জানা গেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে মামলা-পাল্টা মামলার সৃষ্টি হওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে।
