বিশ্বনাথে বৃহস্পিবার ৮ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে ১৪৪ ধারা জারি

IMG-20261007-WA0029

(ডাকবাংলো ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ, পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েতে ও আগ্নেয় হাতিয়ার এবং লাঠি বহনে নিষেধাজ্ঞা)

সিলেট জেলা প্রতিনিধি :
আব্দুল হামিদ রানা

সিলেটের বিশ্বনাথ পৌরশহরের কলেজ রোডের ডাকবাংলো ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সময় ও একই স্থানে দুটি পৃথক পক্ষ মুখোমুখি প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি আহ্বান করায় সংঘাতের আশঙ্কা থেকে প্রশাসন এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ বিন কাশেম স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে কার্যকর
উপজেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্বনাথ পৌরসভার কলেজ রোডের ডাকবাংলো ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে।
এ সময় ওই এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির যেকোনো ধরনের জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এ ছাড়া লাঠি, দেশীয় বা অন্য কোনো ধরনের অস্ত্র, গোলাবারুদ কিংবা বিস্ফোরক দ্রব্য বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ সমাবেশ, মিছিল কিংবা জমায়েতের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
কেন ১৪৪ ধারা?
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, একই স্থান ও একই সময়ে দুটি পৃথক পক্ষ প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে। এতে উভয় পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান এবং সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জনসাধারণের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্ত নেয়।
বিশেষ করে কোনো কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আগে থেকেই জমায়েত নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধে ১৪৪ ধারা প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।
১৪৪ ধারা কী?
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা (CrPC Section 144) মূলত জরুরি পরিস্থিতিতে জনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য প্রশাসনকে নির্দিষ্ট এলাকায় কিছু কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা দেয়।
এ ধারার আওতায় কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সভা-সমাবেশ, মিছিল, জনসমাগম, অস্ত্র বহনসহ পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ বা সীমিত করা যেতে পারে। আদেশের পরিধি ও শর্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের জারিকৃত আদেশের ওপর নির্ভর করে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—১৪৪ ধারা নিজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে “কারফিউ” নয়। কারফিউ হলে সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ে মানুষের চলাচলের ওপর আরও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। আর ১৪৪ ধারার আদেশে কোন এলাকায় কী কী কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে, তা প্রশাসনের লিখিত আদেশে নির্ধারিত থাকে।
সাধারণ মানুষের করণীয়
প্রশাসনের জারি করা আদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা ও পথচারীদের সতর্কভাবে চলাচল করা উচিত। বিশেষ করে—
নিষিদ্ধ এলাকায় কোনো সভা, সমাবেশ, মিছিল বা শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া যাবে না।
পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত এড়িয়ে চলতে হবে।
লাঠি, অস্ত্র, গোলাবারুদ বা বিস্ফোরক দ্রব্য বহন করা যাবে না।
কোনো পক্ষের রাজনৈতিক বা সামাজিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
জরুরি প্রয়োজনে এলাকায় চলাচল করতে হলে পরিস্থিতি ও প্রশাসনের নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে চলাচল করা উচিত।
গুজব, উসকানিমূলক বক্তব্য বা যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দেখা দিলে নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা উচিত।
আদেশ অমান্য করলে ব্যবস্থা
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ১৪৪ ধারার আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নিষিদ্ধ সমাবেশে অংশ নিলে, মিছিল বা শোভাযাত্রা করলে কিংবা অস্ত্র-লাঠি বা বিস্ফোরক দ্রব্য বহন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
জননিরাপত্তায় প্রশাসনের সতর্ক অবস্থান
দুটি পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের সংঘর্ষ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা জনদুর্ভোগের সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যেই প্রশাসনের এ পদক্ষেপ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
১৪৪ ধারা কার্যকর থাকার সময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো পক্ষ যেন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা না করে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকবে বলে জানা গেছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্বনাথ পৌরশহরের কলেজ রোডের ডাকবাংলো ও তৎসংলগ্ন এলাকায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। ফলে ওই এলাকায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি থাকলেও ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকা অবস্থায় তা পালন করা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

Reporter: