নকল সিলে শিক্ষার্থীদের ফি আত্মসাতের অভিযোগ, নোবিপ্রবিতে কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত

IMG-20260810-WA0038

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) অগ্রণী ব্যাংকের সিল ও স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা ফি আত্মসাতের অভিযোগে মোহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন নামে এক কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

শাহাদাত হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে ‘কাম কম্পিউটার টাইপিস্ট’ পদে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ তামজিদ হোসাইন চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে গত ৬ আগস্ট তার সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, শাহাদাত হোসাইনের বিরুদ্ধে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির সিল জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা ফি আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ এপ্রিল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, আইনগত প্রক্রিয়া চলমান থাকায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ১২(১) বিধি অনুযায়ী শাহাদাত হোসাইনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বরখাস্তকালীন সময়ে তাকে কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, শাহাদাত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সনদ উত্তোলনের ফি ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা বলে নগদ অর্থ গ্রহণ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, পরে ওই অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে রসিদে অগ্রণী ব্যাংকের সিল ও স্বাক্ষরের আদলে তৈরি নকল সিল ব্যবহার করা হতো। এতে শিক্ষার্থীরা ফি ব্যাংকে জমা হয়েছে মনে করলেও অর্থ ব্যাংকে জমা পড়ত না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। অগ্রণী ব্যাংকের নোবিপ্রবি শাখার প্রকৃত সিলে ‘ক্যাশ রিসিভ’ লেখা থাকলেও শাহাদাতের ব্যবহৃত সিলে ‘ক্যাশ রিসিভড’ লেখা ছিল। রসিদের এই পার্থক্য সহকর্মীদের নজরে আসার পর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়।

তদন্তে অন্তত ১৪টি রসিদে নকল সিল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর শাহাদাতকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে অন্য বিভাগে বদলি করা হয়। পরে অভিযোগের তদন্তে রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলমকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থী মো. এমরান হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।

Reporter: