পীরগাছায় অবৈধ তেল কারখানায় অভিযান, নামমাত্র সাজা ও মালামাল ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ
মোঃ সৈয়দ আলী, পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগাছায় অবৈধভাবে সয়াবিন তেল ও বিভিন্ন ভেজাল খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী একটি কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে মালিককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। তবে বিপুল পরিমাণ পণ্য ও কাঁচামাল রেখে সামান্য অংশ জব্দ এবং দূষিত তেল পুনরায় সংগ্রহের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পীরগাছা বাজারে অবস্থিত ‘মীম কনজ্যুমার’ নামের কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পীরগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারেক হাসান তাহসিন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, প্রয়োজনীয় বৈধ লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সয়াবিন তেল, আটা, ওরস্যালাইন, জুসসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছিল। অভিযানে আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ায় কারখানার মালিক মশিউর রহমানকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত মশিউর রহমান উপজেলার পারুল ইউনিয়নের সুন্দর এলাকার আজিজুল ইসলামের ছেলে।
এদিকে অভিযানের পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের দাবি, কারখানাটিতে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ভেজাল খাদ্যপণ্য ও কাঁচামাল মজুত ছিল। তবে এর সামান্য অংশ জব্দ করে বিপুল পরিমাণ মালামাল কারখানায় রেখে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কারখানার বাইরে ফেলে দেওয়া দূষিত তেল অভিযানের সময়ই পুনরায় কুড়িয়ে পাত্রে ভরতে দেখা গেছে। এতে এসব পণ্য পরবর্তীতে আবারও বাজারজাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বড় পরিসরে অবৈধ ও ভেজাল খাদ্যপণ্য উৎপাদনের ঘটনায় শুধু কারাদণ্ড ও জরিমানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ মালামাল রেখে দেওয়ায় অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, জব্দযোগ্য পণ্য ও কাঁচামাল যথাযথভাবে জব্দ ও ধ্বংস করা হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিযানটি আরও কার্যকর হতো।
অভিযানের বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তারেক হাসান তাহসিন জানান, বিএসটিআই ও সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় অপরাধীকে সাজা ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ভেজাল খাদ্যপণ্যের বিরুদ্ধে নিয়মিত তদারকি, আইনানুগ ব্যবস্থা এবং জব্দ করা পণ্যের যথাযথ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবৈধ খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
