পীরগাছায় স্কুলের জমি বেদখলের অভিযোগ, প্রতিবাদে রাজপথে শিক্ষার্থীরা

IMG-20260930-WA0030

মোঃ সৈয়দ আলী, পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের পীরগাছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি বেদখলের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি, প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর আগে বিদ্যালয়সংলগ্ন উত্তর পাশে আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বাড়ি নির্মাণ করেন। বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সুপারিশে মানবিক কারণে বিদ্যালয়ের প্রায় ৪ শতক জমি দিয়ে মৌখিকভাবে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর থেকে আব্দুর রহমানের পরিবার ওই জমি দিয়ে যাতায়াত করে আসছিল।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রায় এক সপ্তাহ আগে আব্দুর রহমানের ছেলে রওশন আলম ওই চলাচলের রাস্তার প্রবেশমুখে আরসিসি ঢালাই দিয়ে স্থায়ী অবকাঠামো ও স্টিলের গেট নির্মাণ শুরু করেন। প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ সরদার নির্মাণকাজ বন্ধ করতে বললেও তিনি তা মানেননি। এ সময় প্রধান শিক্ষককে হুমকি ও লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

পরে বিদ্যালয়ের জমি রক্ষায় প্রধান শিক্ষক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। তবে কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় বুধবার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

কর্মসূচি চলাকালে অভিযুক্ত রওশন আলমের বোন সেখানে উপস্থিত হয়ে কর্মসূচি বানচালের চেষ্টা করেন এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে সেখানে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমাদের স্কুলের জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। অথচ আমরা কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। তাই বাধ্য হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। বিদ্যালয়ের দখল হয়ে যাওয়া জমি পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চাই।”

তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রওশন আলম। তিনি বলেন, “আমরা ৬০-৭০ বছর ধরে এখানে বাড়ি করে এই জমি ভোগদখল করে আসছি। আমাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ সরদার বলেন, “এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই। একজন প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে প্রতিষ্ঠানের জমি বেদখল হওয়া থেকে রক্ষার চেষ্টা করছি।”

পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মুজাক্কিন বলেন, “শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালনের আগে আমার কাছে আসতে পারত। বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Reporter: