কাউনিয়ায় ৯ হাজার টাকা বকেয়া: গ্যারান্টার ইমামকে ২০ হাজার টাকার আইনি নোটিশ, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন

0
Untitled-1

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় মাত্র ৯ হাজার টাকা বকেয়া ঋণের জেরে গ্যারান্টার হিসেবে এক মসজিদের ইমামকে আইনি নোটিশ পাঠানোর ঘটনায় এলাকায় সমালোচনা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি ঘিরে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের নীতি, শর্ত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের খোপাতি গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র’-এর কাউনিয়া শাখা থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নেন। সুদসহ ঋণের মোট পরিশোধযোগ্য অর্থ নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ১৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে তিনি এক লাখ ৪ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। নির্ধারিত সময়ে অবশিষ্ট ৯ হাজার টাকা পরিশোধ করতে না পারলেও পরে ফিল্ডকর্মীর মাধ্যমে সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এর কিছুদিন পর ঋণের গ্যারান্টার হিসেবে স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিক্ষক মোত্তালেব হোসেনের কাছে ২০ হাজার টাকা বকেয়া দাবি করে আইনি নোটিশ পাঠানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ঋণগ্রহীতা নুরুল ইসলাম বলেন, “পারিবারিক সমস্যার মধ্যেও অনেক কষ্টে ঋণ পরিশোধ করেছি। এরপরও হঠাৎ করে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে আমাদের সামাজিকভাবে বিব্রত করা হয়েছে।”
গ্যারান্টার মোত্তালেব হোসেন বলেন, “ঋণগ্রহীতা কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব করার পরও সংস্থাটি আমার সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। সরাসরি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এতে আমি ও আমার পরিবার মানসিকভাবে দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছি।” তিনি বলেন, দরিদ্র মানুষের সহায়তার কথা বলে পরিচালিত ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে এ ধরনের চাপ প্রয়োগ অমানবিক। তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রতিকার চেয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে ‘পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র’-এর কাউনিয়া শাখার ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান বলেন, “বকেয়া ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঋণগ্রহীতা ও গ্যারান্টারদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ।”
স্থানীয় ইমাম হাবিবুর রহমান বলেন, ক্ষুদ্রঋণের মূল লক্ষ্য হলো স্বল্প আয়ের মানুষকে স্বাবলম্বী করা। তবে অতিরিক্ত সুদ, কঠোর কিস্তি পদ্ধতি এবং আইনি নোটিশের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করলে তা দরিদ্র মানুষের জন্য নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, “বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম যদি মানুষের উন্নয়নের পরিবর্তে সামাজিক চাপ ও অপমানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তারা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *