শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদেরই ঠাঁই হলো না মঞ্চে, ক্ষোভ শিক্ষক মহলে

IMG_20260817_112705

গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধি:

কালিহাতী (টাঙ্গাইল): ‘শিক্ষা আলো ছড়ায়, মাদক জীবন হারায়’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মাদক নির্মূল বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এ সভায় মঞ্চে কোনো শিক্ষককে আসন না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক নেতাকে প্রথম সারির আসন থেকে সরিয়ে পেছনের সারিতে বসানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিক্ষক মহলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. লুৎফর রহমান মতিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কালিহাতী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক।

সভায় উপস্থিত একাধিক শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শী জানান, শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত সভা হলেও মঞ্চে কোনো কলেজের অধ্যক্ষ কিংবা কোনো স্তরের শিক্ষককে আসন দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সভায় উপস্থিত শিক্ষক ও সুধীজনের মধ্যে আলোচনা ও গুঞ্জন শুরু হয়।

এদিকে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য, টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি এবং টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এ.কে.এম. আব্দুল আউয়ালকে প্রথম সারির আসন থেকে সরিয়ে পেছনের সারিতে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় উপস্থিত শিক্ষক ও সুধীজনের মধ্যে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

শিক্ষক সমাজের একটি অংশের অভিযোগ, শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁদের যথাযথ মর্যাদা ও মূল্যায়ন করা হয়নি। কেউ কেউ ঘটনাটিকে পরিকল্পিত বলেও মন্তব্য করেন। তবে এ বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সভায় বক্তব্য দেন কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কাইয়ুম খান সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শুকুর মাহমুদ, টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এ.কে.এম. আব্দুল আউয়াল, ড্যাব নেতা ডা. শাহ আলম তালুকদার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমীর আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক হিরো, কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান, কালিহাতী মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি তারেক আহমেদ, সহদেবপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল আজিজ এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মফিজুল ইসলামসহ অনেকে।

মঞ্চে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের আসন না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যাপক এ.কে.এম. আব্দুল আউয়াল বলেন, শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত সভায় অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের মঞ্চে আসন দেওয়া যথার্থ ছিল।

কালিহাতীর ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লুৎফর রহমান মতিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় শিক্ষকদের মূল্যায়ন করা হয়নি। মঞ্চে অধ্যক্ষ বা শিক্ষকদের স্থান না দিয়ে শিক্ষক সমাজকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে এলেঙ্গা সরকারি শামসুল হক কলেজের অধ্যক্ষকেও মঞ্চে নেওয়া হয়নি। অথচ অনেক অযাচিত লোককে মঞ্চে দেখা গেছে।”

সভায় উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও অসন্তোষ দেখা যায়। অনেকেই শিক্ষকদের মর্যাদা ও যথাযথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে এর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্যের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

শিক্ষকদের মর্যাদা, অংশগ্রহণ ও যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করে ভবিষ্যতে এ ধরনের সভা আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা।

Reporter: