কাউনিয়ায় ফসলি জমির মাটি বাণিজ্য : গভীর খাদে পরিণত কৃষিজমি, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

0
WhatsApp Image 2026-03-09 at 11.48.41 PM

কাউনিয়া (রংপুর)প্রতিনিধি :
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় কৃষিজমি সুরক্ষা, ভূমি ব্যবহার নীতিমালা ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে উর্বর তিন ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রির ঘটনা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়ার পরও বন্ধ হচ্ছে না এই অবৈধ মাটি বাণিজ্য। এতে এক সময়ের সমতল ফসলি জমি এখন গভীর খাল ও খাদে পরিণত হয়েছে। ফলে পাশের জমি ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


এদিকে ট্রাকযোগে মাটি পরিবহনের কারণে এলাকার সড়ক গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের গেদ্দ বালাপাড়া গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে আহমাদ আলীসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে তিন ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। শুধু রাতের আঁধারেই নয়, দিনের বেলাতেও প্রকাশ্যে ট্রাক ভর্তি করে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জমিগুলো অত্যন্ত উর্বর এবং প্রতি বছর তিন মৌসুমে বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হয়। কিন্তু মাটি উত্তোলনের ফলে জমির উর্বর টপসয়েল নষ্ট হয়ে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ হয়নি। বরং এক সময়ের সমতল কৃষিজমি এখন গভীর গর্তে পরিণত হয়েছে। এতে পাশের ফসলি জমি ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মাটি পরিবহনের কারণে এলাকার সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ বাড়ছে।


পাশর্^বর্তী জমির মালিক আফজাল হোসেন জানান, অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে অবাধে বাণিজ্য করা হচ্ছে। এতে জমিগুলো গভীর গর্তে পরিণত হয়েছে এবং পাশের জমি ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি দ্রুত অবৈধ মাটিকাটা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


স্থানীয়রা আক্ষেপ করে জানান, অবৈধ ভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে ট্রাক্টর দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে রাতের আঁধারেই শুধু নয়, দিনের বেলাতেও প্রকাশ্যে ট্রাক ভর্তি করে মাটি বিক্রি করে আসছে। মাটি কাটা বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেও মাটিকাটা বন্ধ করা যায়নি। একপর্যায়ে এলাকাবাসী বেশ কয়েকবার মাটি বোঝাই কয়েকটি ট্রাক আটক করেন। পরে প্রশাসনকে খবর দেওয়া হলেও ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় ট্রাকগুলো জব্দ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। বরং একসময়ের সমতল কৃষিজমি এখন অনেক গভীর খালে পরিণত হয়েছে।


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার বলেন, ফসলি জমি থেকে এভাবে মাটি কাটা চলতে থাকলে ওই এলাকার উর্বর ফসলি জমির টপসয়েল নষ্ট হয়ে কৃষি ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পাপিয়া সুলতানা বলেন, অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড আরোপ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসন জনস্বার্থে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এবং কৃষিজমি রক্ষা ও অবৈধ মাটিকাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অবৈধ মাটি কাটা থামেনি। বরং একসময়ের সমতল কৃষিজমি এখন অনেক গভীর গর্তে পরিণত হয়েছে। অবিলম্বে সরেজমিন তদন্ত করে অবৈধ মাটি বাণিজ্যের মূলহোতাসহ জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *