পীরগাছায় সরকারি রাস্তার আমগাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ, সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য অভিযুক্ত
পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের চাপড়া (বালারদীঘি) এলাকায় সরকারি রাস্তার পাশের মূল্যবান আমগাছ কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মুক্তা বেগমের বিরুদ্ধে। সরকারি সম্পদ কাটার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কান্দি ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মুক্তা বেগম চাপড়া এলাকার সরকারি রাস্তার পাশে থাকা পাঁচটি আমগাছ কেটে ফেলেন। পরে গাছগুলো স্থানীয়ভাবে প্রায় ২৯ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর দাবি, কেটে ফেলা পাঁচটি গাছের প্রকৃত বাজারমূল্য বিক্রয়মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে সরকারি সম্পদ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে সরকারি রাস্তার গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করে মুক্তা বেগম বলেন, “গাছগুলো বহু আগে আমার বাবা লাগিয়েছিলেন। তাই এগুলো আমাদের। বর্তমানে বাবা অসুস্থ থাকায় তাঁর চিকিৎসার খরচ মেটাতে বাধ্য হয়ে গাছগুলো কেটে বিক্রি করেছি।”
সরকারি রাস্তার গাছ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কেটে বিক্রি করার সুযোগ রয়েছে কি না—এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, সরকারি সম্পত্তি বা রাস্তার গাছ কাটার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। এ ধরনের গাছ বিক্রির ক্ষেত্রেও উন্মুক্ত দরপত্রের নিয়ম রয়েছে। ব্যক্তিগত যুক্তিতে সরকারি সম্পদ কাটার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টির সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সরকারি গাছ কাটার পেছনে অন্য কারও প্রভাব বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং গাছ বিক্রির অর্থের সঠিক হিসাবও তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
