তিস্তা চরাঞ্চল ও নিজ এলাকায় শতাধিক শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

0
received_1184632850510570


পিএম হামিদুর রহমান হামিদের মানবিক উদ্যোগে স্বস্তি ফিরেছে অসহায়দের জীবনে
রংপুর ব্যুরো অফিস ॥
তীব্র শৈত্যপ্রবাহে যখন জনজীবন বিপর্যস্ত, বিশেষ করে নদীতীরবর্তী তিস্তা চরাঞ্চলের মানুষ যখন চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে, ঠিক সেই সময় শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিজয় টেলিভিশনের রংপুর ব্যুরো এবং রংপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী পিএম হামিদুর রহমান হামিদ।
তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিস্তা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিজ এলাকার অতি দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। মানবিক এই সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চলতি শীত মৌসুমে শতাধিক (১০০) শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়নের এসপারের বাঁধ সংলগ্ন তিস্তা চরাঞ্চল এবং পলাশী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে পৃথকভাবে এই শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।


শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পিএম হামিদুর রহমান হামিদ বলেন,
“তিস্তা চরাঞ্চলের মানুষ প্রতি বছরই শীত মৌসুমে চরম দুর্ভোগে পড়ে। নদীভাঙন, দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানের অভাবে তাদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টকর। অনেক পরিবার পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হয়। এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই প্রতিবছর শীতবস্ত্র বিতরণের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।”
তিনি আরও বলেন,
“সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ যদি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসে, তাহলে শীতার্ত মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শীত মৌসুমে তিস্তা চরাঞ্চলে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। কনকনে ঠান্ডা বাতাস ও ঘন কুয়াশায় এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা হয়ে পড়ে দুর্বিষহ। অধিকাংশ অসহায় পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র সংগ্রহ করতে পারে না। এমন বাস্তবতায় এই শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
শীতবস্ত্র পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বয়স্ক ফজিলা বেগম কম্বল পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন,
“তিস্তার ওপর দিয়ে খুব ঠান্ডা বাতাস আসে। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারতাম না। এই কম্বল পেয়ে এখন শান্তিতে ঘুমাতে পারবো।”


একই অনুভূতি প্রকাশ করে আজিজার হোসেন বলেন,
“আল্লাহ আপনাকে ভালো রাখুক। এই কম্বল পেয়ে আমার অনেক উপকার হয়েছে। এমন মানুষদের জন্য সব সময় দোয়া করি।”
পলাশী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলফা বেগম বলেন,
“এই কম্বল পাইয়া খুব উপকার হইছে। আল্লাহ আপনার ভালো করুক, এবার শীতে আর কষ্ট হইবো না।”
এছাড়াও আসিয়া বেগম কম্বল পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “আপনার জন্য অনেক দোয়া রইলো।”
শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবক ও এলাকাবাসীরা উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেন। মানবিক এই উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর নিয়মিতভাবে এ ধরনের সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে পিএম হামিদুর রহমান হামিদ তিস্তা চরাঞ্চলের অসহায় মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।
এ সময় উপস্থিত থেকে কম্বল বিতরণ করেন পলাশী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য লুৎফর রহমান, বাইতুল মোকাররম পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হোসেন আলী, মসজিদের সভাপতি পিএম হামিদুর রহমান হামিদ, সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান আসাদ, আবেদুজ্জামান আবেদ, রফিকুল ইসলাম, শাহজাহান আলীসহ এলাকার সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ ও মসজিদের মুসল্লিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *