পীরগাছায় ক্ষমতার অপব্যবহার: সরকারি রাস্তার গাছ কেটে বেচে দিলেন নারী ইউপি সদস্য, এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ
মোঃ সৈয়দ আলী পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের পীরগাছায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি রাস্তার ধারের মূল্যবান আমগাছ গোপনে কেটে বিক্রি করে দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে এক নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৯ নম্বর কান্দি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চাপড়া (বালারদীঘি) এলাকায়। অভিযুক্তের নাম মুক্তা বেগম, যিনি কান্দি ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
গোপনে গাছ বিক্রি ও এলাকাবাসীর অভিযোগ:স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সংরক্ষিত ইউপি সদস্য মুক্তা বেগম ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বেআইনিভাবে ওই সরকারি রাস্তার ধারের পাঁচটি বড় ফলজ আমগাছ কেটে ফেলেন। পরবর্তীতে তিনি কারো মতামত না নিয়ে গোপনে মাত্র ২৯ হাজার টাকায় স্থানীয় এক ক্রেতার কাছে গাছগুলো বিক্রি করে দেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর দাবি, নিধন করা গাছগুলোর প্রকৃত বাজারমূল্য ওই বিক্রি করা মূল্যের চেয়ে বহু গুণ বেশি। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সরকারি সার্ভেয়ারকে দিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে বেআইনি সীমানা নির্ধারণ করিয়ে রাতের আঁধারে ব্যক্তিমালিকানাধীন দেখিয়ে গাছগুলো কাটানো হয়েছে।
গাছ কাটার আগে সঠিকভাবে সীমানা চিহ্নিত না করায় তাদের নিজস্ব সম্পত্তিরও ক্ষতি করা হয়েছে। ইউপি সদস্যের বিচিত্র ব্যাখ্যা:সরকারি রাস্তার গাছ এভাবে নিজ সুবিধামতো কেটে বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করলেও অদ্ভুত ও বিচিত্র যুক্তি দিয়েছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মুক্তা বেগম। তিনি বলেন, “গাছগুলো বহুবছর আগে আমার বাবা লাগিয়েছিলেন, তাই এগুলো আমাদের পারিবারিক গাছ। বর্তমানে আমার বাবা গুরুতর অসুস্থ থাকায় চিকিৎসার খরচ মেটাতে বাধ্য হয়ে গাছগুলো বিক্রি করেছি।” আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রশাসন:ব্যক্তিস্বার্থে বা ব্যক্তিগত অজুহাতে সরকারি সম্পদ বিক্রির কোনো সুযোগ আছে কি না—জানতে চাইলে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন স্পষ্ট জানান, সরকারি সম্পত্তি বা রাস্তার গাছ কাটতে হলে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান (টেন্ডার) করা বাধ্যতামূলক।
আবেগ বা ব্যক্তিগত যুক্তিতে সরকারি আমানত নষ্ট করার কোনো সুযোগ আইনে নেই। তিনি আরও জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সত্যতা যাচাই করা হয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এদিকে, সীমানা পুনরায় সঠিকভাবে নির্ধারণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারী এই জনপ্রতিনিধি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি শাস্তির জোর দাবি জানিয়ে পীরগাছা ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
