পুলিশের পোশাকে ‘বাবা’, সাভারে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ; পীরগাছায় কফিন নিয়ে থানা অবরোধ

0
IMG-20260808-WA0051

সৈয়দ আলী, পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি
৮ আগস্ট ২০২৬

রংপুরের পীরগাছা থেকে পালিয়ে যাওয়া এক কিশোরীকে উদ্ধারে ঢাকার সাভারে পুলিশের সঙ্গে অভিযানে গিয়ে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত যুবকের নাম মনোয়ারুল বকসি। পরিবারের অভিযোগ, পীরগাছা থানা পুলিশের উপস্থিতিতে পুলিশের পোশাক পরে অভিযানে অংশ নেওয়া কিশোরীর বাবা শফিকুল ইসলাম মিন্টু মনোয়ারুলকে তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছেন।

শনিবার নিহতের মরদেহ পীরগাছায় পৌঁছালে ঘটনাটি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও স্বজনেরা কফিন নিয়ে পীরগাছা থানা চত্বরে অবস্থান নেন। তারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও থানা অবরোধ করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে বিরোধ

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পীরগাছা উপজেলার মোংলাকুটি উজানপাড়া এলাকার শাহরিয়ার কবির সৌমিকের সঙ্গে একই এলাকার ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

দুই পরিবার এ সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় সম্প্রতি তারা দুজন একসঙ্গে বাড়ি থেকে চলে যায়। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা শফিকুল ইসলাম মিন্টু পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডির সূত্র ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে পীরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক চন্দ্রের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি পুলিশ দল ঢাকার সাভারের বিপিএটিসি কোয়ার্টারে অভিযান চালায়।

পুলিশের পোশাক পরা নিয়ে প্রশ্ন

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে কিশোরীর বাবা শফিকুল ইসলাম মিন্টুও উপস্থিত ছিলেন এবং তার পরনে পুলিশের পোশাক ছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রেমিক সৌমিকের মামা মনোয়ারুল বকসিকে তিনতলা ভবনের ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

একজন সাধারণ নাগরিক কীভাবে পুলিশের পোশাক পরে পুলিশের অভিযানে অংশ নিলেন—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ

নিহতের এক স্বজন বলেন,
“ছেলে-মেয়ে দুজন প্রেম করে চলে গিয়েছিল। কিন্তু কিশোরীর বাবা পুলিশের পোশাক পরে পুলিশের সঙ্গে ঢাকায় গিয়ে আমাদের নিরপরাধ ছেলেকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছেন। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

তবে পরিবারের এই অভিযোগের সত্যতা তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে এখনো আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, “মূল ঘটনাটি ঢাকার সাভার থানা এলাকায় ঘটেছে। মামলার আইনগত প্রক্রিয়া সেখানেই চলছে। পুলিশের পোশাক পরিধান ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

কফিন নিয়ে থানা অবরোধ

শনিবার নিহত মনোয়ারুল বকসির মরদেহ পীরগাছায় পৌঁছালে খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে পরিবারের সদস্য, স্বজন ও বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা থানা চত্বরে জড়ো হন।

তারা কফিন নিয়ে থানার সামনে অবস্থান করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় বিক্ষোভের কারণে থানা এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ঘটনার প্রকৃত কারণ, মনোয়ারুল বকসির মৃত্যুর ধরন এবং পুলিশের পোশাক পরে অভিযানে বেসামরিক ব্যক্তির অংশগ্রহণের বিষয়টি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *