বাঘারপাড়ায় ঘর থেকে মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড?

0
IMG-20260809-WA0051

মো. আল-মাহফুজ শাওন, যশোর প্রতিনিধি

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় নিজ ঘর থেকে মা ও ছয় বছরের ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটির হাত-পা গামছা দিয়ে বাঁধা এবং মায়ের গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে এটিকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে করছে না পুলিশ।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার খলশী গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাত ১০টার দিকে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতরা হলেন—খলশী গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী জুবায়দা খাতুন (৩২) এবং তার ছয় বছর বয়সী ছেলে জিসান।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির একটি কক্ষে খাটের ওপর মা-ছেলের মরদেহ পড়ে ছিল। শিশু জিসানের হাত-পা গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। অপরদিকে জুবায়দা খাতুনের গলায় ওড়না প্যাঁচানো ছিল এবং ওড়নার দুই প্রান্ত তার দুই হাতে ধরা অবস্থায় ছিল বলে জানা গেছে।

শিশুর হাত-পা বাঁধা এবং মায়ের গলায় ওড়না প্যাঁচানো থাকার বিষয়টি ঘটনাটিকে রহস্যময় করে তুলেছে। এ কারণে এটি স্বাভাবিক আত্মহত্যার ঘটনা কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত ও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত জুবায়দার ছোট বোন পিনজিরা জানান, তার ভগ্নিপতি জাকির হোসেন দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তিনি দেশে ফেরেন। জাকিরের ভাই শিহাবের সঙ্গে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। ওই বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন পিনজিরা।

তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

এদিকে স্থানীয় এক প্রতিবেশী জানান, পরিবারটির সঙ্গে কারও তেমন শত্রুতা ছিল বলে তাদের জানা নেই। তার ধারণা, জুবায়দা প্রথমে ছেলেকে হত্যা করার পর নিজে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে এটি তার ব্যক্তিগত ধারণা; এর পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বাঘারপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ জানান, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি দেখে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না। ঘটনাটি রহস্যময় মনে হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে এবং এর পেছনে কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মা ও ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *