বিশ্বনাথে সরকারি আদেশ অমান্য করে সড়কে গেইট নির্মাণের অভিযোগ

0
wwwwww

২০২৫ সালে সাবেক এমপি এম. ইলিয়াস আলীর নামে নামফলক স্থাপনের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের বিশ্বনাথে সরকারি আদেশ অমান্য করে সরকারি সড়কের ওপর গেইট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, ২০২৫ সালে ওই গেইটে ‘নিখোঁজ’ সাবেক সংসদ সদস্য এম. ইলিয়াস আলীর নামে নামফলক স্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সচেতন এলাকাবাসীর পক্ষে গত বুধবার বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ-বিন-কাশেমের কাছে অভিযোগটি দায়ের করেন বিশ্বনাথ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহরমপুর গ্রামের মৃত মনোহর আলীর ছেলে সাজ্জাদ আলী।

অভিযোগে বলা হয়, বিশ্বনাথ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্বনাথ কলেজ রোড, বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর-বাইপাস সড়কসংলগ্ন তিন রাস্তার মুখ মহরমপুর বৈদ্যকাপন থেকে ভোগশাইল সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। ওই সরকারি সড়কের ওপর রাতের আঁধারে বৈদ্যকাপন গ্রামের মৃত আরশ আলীর ছেলে আব্দুল আহাদ ও আব্দুল করিম, একই গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুল আহাদ এবং হারুন খানের ছেলে আজমান খানসহ আরও কয়েকজন অবৈধভাবে গেইট নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

অভিযোগকারী জানান, এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি তৎকালীন বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগের পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা প্রকৌশলী সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় নির্মাণাধীন গেইটের প্রায় চার ফুট পিলার ভেঙে ফেলা হয় এবং সরকারি সড়কের ওপর গেইট নির্মাণ না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগকারীর দাবি, সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা রাতের আঁধারে প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার দুটি পাকা পিলার নির্মাণ করেন। পরে সেখানে ‘স্বাগতম বৈদ্যকাপন’ লেখা একটি গেইট নির্মাণের পাশাপাশি ‘ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এম. ইলিয়াস আলী, সাবেক সংসদ সদস্য-সিলেট-২, স্থাপিত ২০০৫ ইং’ লেখা একটি নামফলক স্থাপন করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে এম. ইলিয়াস আলীর নাম ব্যবহার করে নামফলক স্থাপন করায় বিএনপির নেতা-কর্মীসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। পরে অভিযুক্তরা নামফলক পরিবর্তন করে ‘সাবেক’ শব্দ বাদ দিয়ে পুনরায় আরেকটি নামফলক স্থাপন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরপরও সরকারি নিষেধ অমান্য করে অভিযোগকারীর নিজস্ব ভূমির ওপর একটি পিলার এবং কারিকোনা গ্রামের মতছির আলীর ভূমির ওপর অপর একটি পিলার নির্মাণ করে গেইট নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মানছুরা আক্তার তদন্তের অংশ হিসেবে উভয় পক্ষকে নিয়ে ওসমানীনগর সার্কেল কার্যালয়ে বৈঠক করেন। এ সময় উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি পূর্বে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা প্রকৌশলী গেইট নির্মাণে নিষেধ করেছিলেন—এ সংক্রান্ত কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য বলা হয়।

অভিযোগকারীর দাবি, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দেওয়া নিষেধাজ্ঞার কোনো লিখিত নোটিশ তাদের কাছে না থাকায় বৈঠকের সময় তাৎক্ষণিকভাবে কাগজপত্র উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। তাই সরকারি সড়কে গেইট নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত নথি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর থেকে সংগ্রহ এবং সরকারি নিষেধ অমান্য করে গেইট নির্মাণের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *