রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভরতার প্রত্যয়, কাউনিয়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন

IMG-20260816-WA0072

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি:
“রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রংপুরের কাউনিয়ায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বর্ণাঢ্য র‍্যালির মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হয়। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে র‍্যালিটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। এতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা, মৎস্যচাষি, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

পরে উপজেলা পরিষদ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করে জাতীয় মৎস্য পক্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এরপর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উদ্বোধনী আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা মিনারা হাফিজা ফেরদৌস। বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ আর এম আল মামুন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জামিনুর রহমান, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ মন্ডল, উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়ক সাইদুল ইসলাম, ইসলামিক আন্দোলন বাংলাদেশ উপজেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব ইদ্রিস আলী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বালাপাড়া ইউনিয়ন তত্ত্বাবধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানা এবং উপজেলা মৎস্য দপ্তরের ক্ষেত্র সহকারী আশরাফুল ইসলাম।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, দেশের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মাছ দেশের অন্যতম প্রধান প্রাণিজ আমিষের উৎস হওয়ার পাশাপাশি এ খাতের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জড়িত।

বক্তারা আরও বলেন, মৎস্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাছের গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এজন্য বৈজ্ঞানিক ও আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ, উন্নত জাতের পোনা ব্যবহার, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে মৎস্যচাষিদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

সভায় জলাশয় ও প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, নির্বিচারে মাছ আহরণ, প্রজনন মৌসুমে মা মাছ শিকার এবং জলাশয় দূষণ বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে মৎস্যসম্পদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ, জলজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মৎস্য আইন মেনে চলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তারা বলেন, তরুণদের আধুনিক মৎস্যচাষে সম্পৃক্ত করা গেলে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে। এতে বেকারত্ব কমার পাশাপাশি উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়বে। পরিকল্পিত ও আধুনিক মৎস্যচাষকে গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করারও সুযোগ রয়েছে।

আলোচনা সভা শেষে মৎস্য উৎপাদন ও চাষে সাফল্য অর্জনকারী মৎস্যচাষিদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবী, খামারি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Reporter: