শিক্ষার আলো যেন নিভে না যায়, ফেরদৌসের পাশে জেলা প্রশাসন
রাব্বি রহমান, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
পারিবারিক প্রতিকূলতা ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যেন কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন থেমে না যায়—এই মানবিক ভাবনা থেকে নীলফামারীতে এক শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সহজ করতে নীলফামারী সদর উপজেলার বাহালীপাড়া এলাকার শিক্ষার্থী ফেরদৌস ইসলামকে একটি সাইকেল প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নীলফামারীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান শিক্ষার্থী ফেরদৌস ইসলামের হাতে সাইকেলটি তুলে দেন।
জানা গেছে, পারিবারিক নানা প্রতিকূলতা ও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত যাতায়াতে সমস্যায় পড়ছিল ফেরদৌস। তবে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অধ্যবসায় ও আগ্রহের সঙ্গে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে সে। তার শিক্ষাজীবন যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয় এবং যাতায়াতের সমস্যা দূর হয়—এ বিবেচনায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তাকে সাইকেলটি দেওয়া হয়।
সাইকেল পেয়ে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শিক্ষার্থী ফেরদৌস ইসলাম। এ সহায়তা তাকে নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের পাশাপাশি পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “কোনো শিক্ষার্থীর আর্থিক অসচ্ছলতা যেন তার শিক্ষার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে প্রশাসন মানবিকভাবে কাজ করতে আগ্রহী। একটি ছোট সহায়তাও একজন শিক্ষার্থীর জীবনে বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে সময়োপযোগী সহায়তা ভবিষ্যতে একটি সম্ভাবনাময় সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে এগিয়ে এলে শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানোও একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
ফেরদৌস ইসলামের মতো আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধের পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
