চাচী-ভাতিজার প্রার্থিতায় সরগরম কমলনগরের ২ নম্বর সাহেবের হাট ইউনিয়ন
মো. নুরুল ইসলাম, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ২ নম্বর সাহেবের হাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আমেজ ও কৌতূহল এখন তুঙ্গে। নির্বাচনী মাঠে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী ‘সাহেব বাড়ির’ দুই সদস্যের প্রার্থিতা। সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আবুল বাশারের স্ত্রী হোসনেআরা বাশার এবং তাঁর ভাতিজা মো. মেজবাউদ্দিন মেজবা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নেওয়ায় ইউনিয়নজুড়ে চলছে নানা আলোচনা ও সমীকরণ।
২ নম্বর সাহেবের হাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. মেজবাউদ্দিন মেজবা দীর্ঘদিনের পারিবারিক ঐতিহ্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন বলে দাবি তাঁর সমর্থকদের।
নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতার বিষয়ে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করে মেজবাউদ্দিন মেজবা বলেন, পারিবারিক ঐতিহ্য ও বংশের মর্যাদা ধরে রাখার পাশাপাশি এলাকার মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, এলাকার গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান। পাশাপাশি নদীভাঙনকবলিত মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
চাচী হোসনেআরা বাশারের প্রার্থিতার বিষয়ে মেজবাউদ্দিন মেজবা বলেন, তিনি তাঁদের বংশের মূল রক্তধারার অংশ নন। তবে পারিবারিক মর্যাদা রক্ষা এবং জনসেবার লক্ষ্য নিয়ে তিনি ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে এখনো অটল রয়েছেন হোসনেআরা বাশার। একই পরিবার থেকে একাধিক প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁদের বাড়ি থেকে যেহেতু আরও একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চাচ্ছেন, তাই বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে বসে আলোচনা করে একটি সমঝোতার চেষ্টা করা হবে।
চাচী-ভাতিজার এই মুখোমুখি প্রার্থিতা ঘিরে ২ নম্বর সাহেবের হাট ইউনিয়নের অলিগলি থেকে শুরু করে চায়ের দোকান পর্যন্ত চলছে নানা আলোচনা ও ভোটের হিসাব-নিকাশ। স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।
ঐতিহ্যবাহী সাহেব বাড়ির এই পারিবারিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়—চাচী ও ভাতিজার কেউ কি একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকবেন, নাকি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা হবে—সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় ভোটারদের।
স্থানীয় কয়েকজন ভোটার জানান, ব্যক্তি বা পারিবারিক পরিচয়ের চেয়ে যিনি জনগণের পাশে থেকে সঠিকভাবে সেবা করবেন এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন, শেষ পর্যন্ত তাঁকেই ভোট দিয়ে জয়ী করতে চান তারা।
