পীরগাছায় ৪ বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ, থানায় মামলা

IMG-20260810-WA0008

মোঃ সৈয়দ আলী, পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের পীরগাছায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চার দিনমজুরের বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, গৃহস্থালির মালামালসহ ছয়টি গরু লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের দামুশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ সৈয়দ আলী (৬৪) বাদী হয়ে ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে পীরগাছা থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।

এজাহারে যা বলা হয়েছে

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে ঘটনার দিন সকালে ছাওলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও পাওটানাহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি পশু চিকিৎসক মোঃ রেজাউল করিম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুকুল মিয়া এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আইয়ুব হোসেনের (আউয়াল) নেতৃত্বে ৭০-৮০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে সিরাজুল ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করে। পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা চারটি ঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এ সময় ঘরে থাকা নগদ এক লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

পরে হামলাকারীরা প্রায় ২০০ গজ দূরে সৈয়দ আলী, এরশাদ হোসেন ও রুবেল মিয়ার বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে আটটি ঘর, বেড়া, মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, রুবেল মিয়ার ঘরের স্টিলের বাক্স ভেঙে নগদ তিন লাখ টাকা, প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া এরশাদ হোসেনের ঘর থেকে সেলাই মেশিন, সেচ মোটর, শ্যালো মেশিন, ৩২ ইঞ্চি এলইডি টিভি, চাল-ডাল ও রান্নার বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, হামলাকারীরা চারটি বাড়ি থেকে দেশি-বিদেশি জাতের ছয়টি গরু নিয়ে যায়। পরে একটি গরু জবাই করে খাবারের আয়োজন করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। হামলার সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়রা কেউ বাধা দিতে এগিয়ে আসতে সাহস পাননি বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

নিঃস্ব হওয়ার দাবি ভুক্তভোগীদের

ভুক্তভোগী সৈয়দ আলী ও সিরাজুল ইসলাম বলেন, হামলার পর তাদের ঘরে পরনের কাপড় ছাড়া তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই। চাল-ডাল থেকে শুরু করে রান্নার হাঁড়ি-পাতিল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে তারা চরম অসহায় অবস্থায় পড়েছেন।

অভিযুক্তদের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আইয়ুব হোসেন (আউয়াল) ও রেজাউল করিম তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা দাবি করেন, ঘটনার সময় তারা এলাকায় ছিলেন না।

অন্য অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মুকুল মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পুলিশের বক্তব্য

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত এজাহার দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Reporter: