মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় হামলার অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি

0
IMG-20260809-WA0016

মো. আল-মাহফুজ শাওন, খুলনা প্রতিনিধি:

খুলনার খালিশপুর থানাধীন মুজগুন্নী উত্তরপাড়া প্যাটকা বাজার এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমে বাধা দেওয়া এবং এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে গণপিটিশন দেওয়াকে কেন্দ্র করে মো. আব্দুস সোবহান (৩৭) নামে এক ব্যক্তির ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে খালিশপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।

গত ৮ আগস্ট ২০২৬ খালিশপুর থানায় করা জিডিতে আব্দুস সোবহান অভিযোগ করেন, এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তাদের কথিত অসামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তার নেতৃত্বে খালিশপুর থানায় একটি গণপিটিশন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিলেন বলে জিডিতে উল্লেখ করেন তিনি।

জিডিতে আরও বলা হয়, গণপিটিশন দেওয়ার পর থেকে আব্দুস সোবহানকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করার পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়। এতে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ৮ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে প্যাটকা বাজারের খাদিজাতুল কোবরা মসজিদের সামনে দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার পথরোধ করেন। এ সময় তাকে গালিগালাজের পাশাপাশি এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয় বলে জিডিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে হামলাকারীদের মধ্যে একজন ধারালো চাপাতি হাতে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার দিকে এগিয়ে আসেন বলেও অভিযোগ করেন আব্দুস সোবহান। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা হাতে থাকা অস্ত্র ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আব্দুস সোবহানের অভিযোগ, মাদকবিরোধী অবস্থান এবং এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে গণপিটিশন দেওয়ার কারণে অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ভবিষ্যতে তার ওপর আরও বড় ধরনের হামলা কিংবা প্রাণনাশের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

এ কারণে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে খালিশপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন আব্দুস সোবহান।

তবে জিডিতে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা, হামলার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত—তা পুলিশি তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অবস্থান নেওয়া সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *