রাজিবপুরে বহিরাগত ভিক্ষুকদের আনাগোনা, পরিবেশ দূষণ নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ
রাজিবপুরে বহিরাগত ভিক্ষুকদের আনাগোনা, পরিবেশ দূষণ নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ
উপজেলা প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলা সদরে দিন দিন বেড়েই চলেছে বহিরাগত ভিক্ষুকদের আনাগোনা। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা এসব ভিক্ষুক দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে ভিক্ষাবৃত্তি করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে একদিকে যেমন জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় অপরিচ্ছন্নতা বাড়ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি এলাকা থেকে আসা কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে রাজিবপুর উপজেলা সদরের পোস্ট অফিস সংলগ্ন পুকুরপাড়ে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সেখানে ছোট ছোট টংঘর তৈরি করে তারা অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দিনের বেলায় তাদের অনেকেই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রামগঞ্জে ঘুরে ভিক্ষা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অস্থায়ীভাবে বসবাসের কারণে ওই এলাকায় পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে খোলা বা কাঁচা ল্যাট্রিন ব্যবহারের কারণে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি রোগজীবাণু বিস্তারের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এতে পুকুরপাড় ও আশপাশের পরিবেশও নোংরা হয়ে পড়ছে বলে তাদের দাবি।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, বহিরাগতদের দীর্ঘদিন অবস্থানের বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাতের বেলায় ওই এলাকায় অপরিচিত লোকজনের চলাচল নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তবে সেখানে মাদক বিক্রি বা চোরাকারবারের সঙ্গে কেউ জড়িত কি না—এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কয়েকজন শুধু সন্দেহের কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ভিক্ষাবৃত্তি একটি সামাজিক ও মানবিক বিষয়। প্রকৃত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। তবে অন্য এলাকা থেকে এসে দীর্ঘদিন ধরে কোনো নির্দিষ্ট স্থানে অস্থায়ী বসতি গড়ে তুলে ভিক্ষাবৃত্তি করার পাশাপাশি যদি পরিবেশ ও জননিরাপত্তার সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা জরুরি।
তাদের দাবি, উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় এভাবে অস্থায়ী বসতি গড়ে ওঠার বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ওই এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশ দূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর আরও দাবি, বহিরাগতদের পরিচয় ও তাদের দীর্ঘদিন অবস্থানের কারণ যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে প্রকৃত ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন বা বিকল্প কর্মসংস্থানের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হলে সমস্যাটির একটি টেকসই সমাধান হতে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং উপজেলা সদরের পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক সামাজিক পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।


