রৌমারীতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চারা বিতরণ
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় রৌমারীতে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গাছের চারা বিতরণ
মোঃ হাফিজুর রহমান (কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি): কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কমিউনিটি ভিত্তিক বনায়ন ও পুনঃ বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রজাতির ১৮০টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। ৩০ আগস্ট রবিবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে “Campaign to Promote Climate Adaptation and Promotional Campaign for Community Afforestation and Reforestation”
শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন, রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল হাসান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা একরামুল হক, উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপার ভাইজার মুকতার হোসেন, উপজেলা সহকারি যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আপেল মাহমুদ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জু, একে এনামুল করিম ফিল্ড কো-অডিনেটর গণ উন্নয়ন কেন্দ্রসহ সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্থানীয় কমিউনিটির এলএফও সদস্য এবং ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকবৃন্দ।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আম, জাম, কাঁঠাল ও নিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৭টি করে চারা বিতরণ করা হয়। তবে আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোট ১৮০টি চারা বিতরণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, খরা, বন্যা ও বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এসব বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও বনভূমি সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি ভিত্তিক বনায়ন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
তারা আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব। পাশাপাশি এসব গাছ ভবিষ্যতে ছায়া, ফল ও পরিবেশগত নানা সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জীববৈচিত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা চারাগুলো যথাযথভাবে রোপণ, পরিচর্যা ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো এবং সবুজায়নের মাধ্যমে একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

