নিধুবাবুর টপ্পা: মরুভূমির সুর হলো বাঙালির গান

উট চালকদের মুখে মুখে ফেরা লোকজ সুরই টপ্পার আদি উৎস।

kidz-230826-01-1787510055

নিধুবাবু পাঞ্জাবি টপ্পা শিখে হঠাৎ তার মনে পড়ল মাতৃভাষার কথা। মনে হলো, পরের ভাষায় তো মনের কথা বলা যায় না। কিন্তু এ বড় দুরূহ কাজ, এত তান রেখে বাংলা কথা বজায় রাখা যায় না। তাই নিধুবাবু কথাগুলো আগে বসিয়ে তারপর তানের পরশন রেখেছেন।

এ কথাগুলো দিয়েই নিধুবাবুর সংগীত দর্শনের সারকথাটি প্রকাশ করেছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রামকুমার চট্টোপাধ্যায়, আধুনিক যুগে নিধুবাবুর টপ্পার অন্যতম প্রধান সাধক ও প্রচারক। বাংলা গানের বিশাল ও বৈচিত্র্যময় ইতিহাসে এমন কিছু সংগীতধারা এসেছে যা আদতে বাংলার বাইরের। কিন্তু এই পলিমাটি আর মানুষের নিবিড় সংস্পর্শে এসে সেগুলো খোলনলচে বদলে গেছে, ধারণ করেছে সম্পূর্ণ নতুন এক রূপ। ‘টপ্পা’ ঠিক তেমনই এক যাযাবর সংগীতধারা।

এর শিকড় পাঞ্জাবের রুক্ষ লোকজীবনে প্রোথিত থাকলেও, পরে লখনৌতে এসে তা শাস্ত্রীয় সংগীতের আভিজাত্য পায়। আর সবশেষে বাংলায় এসে তা খুঁজে পায় নিজস্ব ভাষা, গায়কি আর গভীর আবেগ। এই সুদীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়েই টপ্পা আজকের এই পরিণত রূপে আমাদের সামনে এসে পৌঁছেছে।

বাংলা গানে টপ্পার প্রবেশ শুধু যে নতুন একটি সংগীতশৈলীর আগমন ছিল তা নয়; এর মধ্য দিয়ে ব্যক্তিমানুষের একান্ত প্রেম, বিরহ, আকাঙ্ক্ষা ও অভিমান বাংলা গানের প্রধান উপজীব্য হয়ে উঠতে শুরু করে। এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে আছে রামনিধি গুপ্তের নাম—সংগীতজগতে যিনি ‘নিধুবাবু’ নামেই অমর হয়ে আছেন। তিনিই প্রথম এক বহিরাগত ও জটিল সংগীতধারাকে বাংলার ভাষা ও বাঙালির রুচির সঙ্গে নিপুণভাবে মিলিয়ে এক নিজস্ব ঘরানা তৈরি করেছিলেন।

রাগসংগীতের প্রধান ধারাগুলোর কথা ভাবলে ধ্রুপদ, খেয়াল, টপ্পা, ঠুমরি ও তারানার নাম প্রথমেই আসে। তবে ‘টপ্পা’ শব্দটির উৎস নিয়ে সংগীত বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নানা মতভেদ রয়েছে। বহুল প্রচলিত একটি মত অনুযায়ী, সংস্কৃত ‘লম্ফ’ (যার অর্থ লাফ বা উল্লম্ফন) শব্দ থেকে হিন্দিতে ‘টপা’ শব্দের উদ্ভব ঘটে। এর অন্তর্নিহিত অর্থ দাঁড়ায় ‘সংক্ষিপ্ততা’। অর্থাৎ ধ্রুপদ বা খেয়ালের তুলনায় যা আকারে ছোট এবং যার গঠনশৈলী তুলনামূলক সরল।

কালক্রমে এই ‘টপা’ শব্দই ‘টপ্পা’ হিসেবে পরিচিতি পায়। অবশ্য অন্য এক মতাবলম্বীদের দাবি, এই নামটি পাঞ্জাবের কোনো বিশেষ স্থান থেকেও আসতে পারে। গঠনগতভাবে টপ্পার কাঠামো মাত্র দুই অংশের—স্থায়ী ও অন্তরা।

এই সংগীতধারার আদি উৎস লুকিয়ে আছে পাঞ্জাবের উট চালকদের মুখে মুখে ফেরা এক লোকজ সুরে। বাণিজ্যের প্রয়োজনে মরুভূমির পথে লখনৌয়ে যাতায়াতকারী উট চালকদের সেই বিশেষ কম্পনযুক্ত ও চপল গায়কি স্থানীয়দের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আঠারো শতকে অযোধ্যার বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ গোলাম নবী—যিনি ইতিহাসে ‘শোরী মিয়া’ নামে খ্যাত—এই বুনো লোকসুরকে পরিমার্জিত ও মার্জিত করে একটি স্বতন্ত্র রাগসংগীত-শৈলীতে রূপ দেন। তিনি তার রচিত ও পরিবেশিত প্রতিটি গানের ভণিতায় ‘শোরী মিয়া’ নাম ব্যবহার করতেন, যে কারণে তিনি নিজেই এই নামে কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন। তবে একটি প্রচলিত জনশ্রুতি আছে যে, ‘শোরী’ ছিল আসলে তার প্রিয়তমা স্ত্রীর নাম; স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার টানেই তিনি তার নাম ভণিতায় ব্যবহার করতেন।

শোরী মিয়ার প্রবর্তিত টপ্পার প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল অবিশ্বাস্য দ্রুতগতির সূক্ষ্ম তান, যাকে সংগীতের পরিভাষায় বলা হয় ‘জমজমা’। এছাড়া স্বরবিশেষকে অলংকৃত করার এক বিশেষ কৌশল ছিল, যার নাম ‘গিটকিরি’। ভৈরবী, খাম্বাজ, দেশ, সিন্ধুর মতো হাতে গোনা কয়েকটি রাগেই সাধারণত এই গান বাঁধা হতো। এর কারণ ছিল টপ্পার অতি চঞ্চল ও দ্রুত প্রকৃতি, যার সঙ্গে খুব গম্ভীর বা জটিল রাগের মেজাজ ঠিক বসত না। তবে লখনৌতে যে টপ্পা এক কঠোর ও জটিল রাগসংগীতের রূপ পেয়েছিল, বাংলায় এসে সেই টপ্পাই আবার নতুন করে প্রাণ পেল, রূপান্তরিত হলো অন্য এক আবেগে।

বাংলা ভাষার যে স্বাভাবিক ছন্দ ও লালিত্য, তার সঙ্গে উচ্চাঙ্গ সংগীতের টপ্পার দ্রুত ও জটিল সুরপ্রকরণের মিলন ঘটানো মোটেই সহজসাধ্য ছিল না। এখানেই নিধুবাবুর প্রতিভা ও কৃতিত্ব সবচেয়ে উজ্জ্বল। ১৭৪১ সালে হুগলি জেলার চাঁপতা গ্রামে জন্ম রামনিধি গুপ্তের। তিনি কেবল সংগীতজ্ঞই ছিলেন না, বরং বাংলা, ফারসি ও সংস্কৃত ভাষায় অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল তার। এক মিশনারির কাছে তিনি ইংরেজিও রপ্ত করেছিলেন—সেই নিরিখে তিনি ছিলেন প্রথম যুগের ইংরেজি-শিক্ষিত উচ্চশিক্ষিত বাঙালিদের অন্যতম।

১৭৭৬ সালে বিহারের ছাপরায় গিয়ে কালেক্টরেটে কেরানির চাকরি নেন নিধুবাবু। সেখানে থাকাকালীন স্থানীয় সংগীতজ্ঞদের সান্নিধ্যে তার সংগীততৃষ্ণা নতুন গতি পায়। টপ্পার সেই অদ্ভুত সুরের জালে জড়িয়ে তিনি এর গভীর অনুশীলন শুরু করেন। কিন্তু নিধুবাবুর শিল্পীমন এক সময় গভীর দ্বন্দ্বে পড়ে। তার মনে প্রশ্ন জাগে—অন্যের ভাষায় শেখা এই সংগীত দিয়ে কি নিজের হৃদয়ের সব কথা পুরোপুরি বলা সম্ভব?

মাতৃভাষা ছাড়া প্রাণের গভীরতম অনুভূতি ও হাহাকার প্রকাশ করা যে অসম্ভব, এই গভীর উপলব্ধি থেকেই তিনি সংকল্প করেন বাংলায় টপ্পা রচনার। কিন্তু টপ্পার সেই অতি-দ্রুত তানের চলন বজায় রেখে বাংলা শব্দ বসানো ছিল দুঃসাধ্য কাজ। তাই তিনি প্রচলিত পদ্ধতিটিই বদলে ফেললেন। তিনি আগে গানের বাংলা কথাগুলো বা পদটি স্থির করে নিতেন, তারপর সেই কথার ভাব ও ছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তানের বিন্যাস করতেন। এই পরীক্ষামূলক পদ্ধতিতেই রচিত হলো তার প্রথম বাংলা টপ্পা, যা আজও বাঙালির মুখে মুখে ফেরে—“নানান দেশের নানান ভাষা, বিনে স্বদেশীয় ভাষা পুরে কি আশা?”

বাইজিদের মজলিশ বা উচ্চবিত্তের আসরে গীত হতো বলে রক্ষণশীল সমাজের অনেকে টপ্পাকে ‘অশ্লীল’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। প্রতীকী ছবি।

নিধুবাবুর এই কালজয়ী গানে মাতৃভাষার প্রতি যে আকুতি ও ব্যাকুলতা প্রকাশ পেয়েছে, তার মধ্যেই পরবর্তী বাংলা সাহিত্যে বিকশিত মাতৃভাষা-চেতনার বীজ দেখতে পান সাহিত্য-গবেষক ভূদেব চৌধুরী। তার মতে, “নিধুবাবুর এই অস্ফুট জিজ্ঞাসা ও আকুতিই পরবর্তীকালে ঈশ্বর গুপ্তের ‘মাতৃভাষা’ কবিতায় আরও স্পষ্ট ও মূর্ত রূপ লাভ করে।”

১৭৯৪ সালে চাকরি জীবন থেকে অবসর নিয়ে কলকাতায় ফিরে আসার পর নিধুবাবুর জীবনের একমাত্র সাধনা হয়ে ওঠে সংগীত। ১৮৩২ সালে তিনি তার নিজের রচিত গানগুলো সংকলিত করে ‘গীতরত্ন’ নামে একটি বই প্রকাশ করেন। প্রথম সংস্করণে এতে ৯৬টি গান ছিল, যা পরবর্তী সংস্করণে বৃদ্ধি পেয়ে ১০৩টিতে দাঁড়ায়।

অবশ্য পরবর্তীকালে বিভিন্ন সংকলনে তার নামে প্রচলিত টপ্পার সংখ্যা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা যায়। দুর্গাদাস লাহিড়ীর ‘বাঙ্গালীর গান’ (১৯০৫) সংকলনে ৪৫০টি গানের হদিস পাওয়া যায়, আবার করুণাময় গোস্বামীর ‘বাংলা গানের বিবর্তন’ গ্রন্থে প্রায় ৬০০টি টপ্পার উল্লেখ আছে, যেখানে ব্যবহৃত রাগের সংখ্যাও ১০০ ছাড়িয়ে গেছে।

তবে নিধুবাবুর প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব ছিল টপ্পাকে বাংলা ভাষার প্রকৃতির সঙ্গে মানানসই করে তোলা। শোরী মিয়ার সেই তীব্র গতি ও জটিল সুর চালনার বদলে তিনি বাংলায় প্রবর্তন করলেন তুলনামূলক ‘মধ্যলয়ের’ এক দোলায়িত গায়কি। এর ফলে বাংলা শব্দের সঠিক উচ্চারণ, ছন্দ ও এর অন্তর্নিহিত আবেগ সুরে নষ্ট না হয়ে বরং আরও স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ পাওয়ার সুযোগ পেল। তার হাতে পড়ে টপ্পা ভারতীয় রীতির অনুসারী হয়েও নিছক অন্ধ অনুকরণ রইল না, বরং তা হয়ে উঠল খাঁটি বাঙালি।

নিধুবাবুর সময়ে বাংলা গানের একটি বিশাল অংশ জুড়ে ছিল ভক্তি ও ধর্মীয় আবহ। বৈষ্ণব পদাবলি বা শাক্ত পদাবলিতে প্রেম ও বিরহের কথা থাকলেও, সেগুলো মূলত ছিল দেবতা ও ভক্তের সম্পর্ক কিংবা রাধা-কৃষ্ণের রূপকের আবরণে ঢাকা। নিধুবাবুর টপ্পায় এই প্রথাগত চিত্র আমূল বদলে গেল। তার গানে প্রেমের মানুষ হয়ে উঠল রক্ত-মাংসের সাধারণ মানুষ। প্রেমিক-প্রেমিকার একান্ত আকাঙ্ক্ষা, তীব্র অভিমান, বিচ্ছেদ ও বিষণ্নতা সরাসরি গানের মূল বিষয় হয়ে উঠল। অনেক ক্ষেত্রে মিলনের আনন্দের চেয়ে না-পাওয়ার হাহাকার, অন্তহীন অপেক্ষা ও বিচ্ছেদের বেদনা তার গানে অনেক বেশি গভীর ও তীব্র হয়ে ফুটে উঠত।

কলকাতায় ফেরার পর নিধুবাবু নিজেও ‘শ্রীমতী’ নামে এক রূপবতী ও সংগীতগুণী বাইজির প্রেমে পড়েছিলেন বলে শোনা যায়। লোকশ্রুতি আছে যে, তার বহু কালজয়ী টপ্পার পেছনে এই গভীর প্রেমই ছিল প্রধান চালিকাশক্তি। তার বিখ্যাত গান “ভালবাসিবে বলে ভালবাসিনে”—এই বিশেষ মানবিক প্রেমভাবনারই এক অসামান্য উদাহরণ।

নিধুবাবুর গান মূলত বাইজিদের মজলিশ বা উচ্চবিত্তের আসরে গীত হতো বলে পরবর্তীকালে রক্ষণশীল সমাজের অনেকে তার টপ্পাকে ‘অশ্লীল’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এমনকি গানের সাহিত্যিক মান নিয়েও যথেষ্ট সমালোচনা হয়েছিল। তবে সংগীত-ইতিহাসবিদদের মতে, সুরের অলৌকিক সৌন্দর্য ও গায়কির সূক্ষ্ম কারুকাজ এই সমস্ত সমালোচনা ও সীমাবদ্ধতাকে বহু আগেই অতিক্রম করে গেছে।

নিধুবাবুর অবদান শুধু টপ্পাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ও তার আত্মীয় কুলুইচন্দ্র সেন মিলে শান্তিপুর ও নবদ্বীপ অঞ্চলের ‘আখড়াই’ গানকেও এক আধুনিক রূপ দিয়েছিলেন। কলকাতায় ফিরে আখড়াই গান শেখানোর জন্য তিনি একটি আলাদা শিক্ষাকেন্দ্রও খোলেন। তারই প্রভাবে এই পরিবেশনায় প্রথমবারের মতো বেহালা, সেতার, তানপুরা ও জলতরঙ্গের মতো বাদ্যযন্ত্রের সার্থক ব্যবহার শুরু হয়, যা আগে কল্পনা করা যেত না।

নিধুবাবুর পাশাপাশি কালী মীর্জাও বাংলায় টপ্পার প্রসারে এক উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে টপ্পার এই অনন্য সুররীতি বাংলা গানের বিভিন্ন ধারায় ছড়িয়ে পড়ে। শ্রীধর কথক টপ্পা রচনায় বেশ জনপ্রিয়তা পান। এছাড়া দাশরথি রায়, গোবিন্দ অধিকারী, আশুতোষ দেব ও কাশীপ্রসাদ ঘোষের মতো প্রথিতযশা কবি ও গীতিকাররাও এই আঙ্গিকে বহু গান রচনা করেছেন। এর ফলে টপ্পা আর কেবল নির্দিষ্ট কোনো আসরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে ও বাংলা গানের বৃহত্তর ঐতিহ্যের অচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।

উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে নবাব ওয়াজিদ আলী শাহ কলকাতার মেটেবুরুজে বসতি স্থাপন করলে লখনৌর সংগীত ও সংস্কৃতির সঙ্গে বাঙালির যোগাযোগ আরও গভীর হয়। তবে ইতিহাস বলে, তার অনেক আগেই নিধুবাবুর জাদুকরী ছোঁয়ায় টপ্পা বাংলার সংগীতজগতে নিজের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী আসন পাকা করে নিয়েছিল।

পরবর্তীকালের বাংলা গানেও টপ্পার সেই অমর প্রভাব নানাভাবে ফিরে ফিরে এসেছে। ঠাকুরবাড়ির সাংগীতিক পরিবেশে ছোটবেলা থেকেই নিধুবাবুর টপ্পার সঙ্গে পরিচয় ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। পরিণত বয়সে তিনি নিজেও টপ্পাঙ্গে বহু কালজয়ী গান রচনা করেছেন। তার অনেক গানে হয়তো সরাসরি টপ্পার অনুকরণ নেই, কিন্তু তান, স্বরচালনা ও সুরের গতির চলনের মধ্যে টপ্পার সেই দোলা স্পষ্টভাবে অনুভব করা যায়। এমনকি বিহারীলাল চক্রবর্তীর গীতিকবিতার বিকাশের ক্ষেত্রেও গবেষকেরা নিধুবাবুর প্রভাবের কথা গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করেন।

তাই টপ্পার ইতিহাসকে কেবল একটি সুরের দেশান্তরী হওয়ার গল্প হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত গুরুত্ব উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। পাঞ্জাবের ধূলিময় লোকজ সুর থেকে লখনৌর রাজকীয় পরিশীলিত রাগসংগীত, এবং সেখান থেকে বাংলার গীতভুবন—টপ্পার এই দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় যাত্রার প্রতিটি বাঁকেই নতুন কিছু যুক্ত হয়েছে। আর বাংলায় সেই বিবর্তনের সবচেয়ে বড় রূপকার ছিলেন রামনিধি গুপ্ত ওরফে নিধুবাবু। তিনি টপ্পাকে শুধু বাংলায় গাইবার যোগ্যই করেননি, এক সময় যা ছিল ভিনদেশি, তা-ই আজ বাঙালির একান্ত নিজস্ব সম্পদ।

তথ্যসূত্র:

১. করুণাময় গোস্বামী, বাংলা গানের বিবর্তন (প্রথম খণ্ড), প্রকাশক: শাহিদা খাতুন, বাংলা একাডেমি, ঢাকা।

২. ম. ন. মুস্তাফা, আমাদের সঙ্গীত: ইতিহাসের আলোকে, প্রকাশক: আশরাফুল আলম পগলু, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।

৩. প্রভাতকুমার গোস্বামী, ভারতীয় সংগীতের কথা, শ্রীমতি বসুধা গোস্বামী, কলকাতা।

৪. সংগীতশিল্পী রামকুমার চট্টোপাধ্যায়, নিধুবাবুর টপ্পা, বিশ্বাস রেকর্ডস, ইউটিউব, ১৯ মে ২০২৪।

Reporter: