সাভারে শক্তিশালী ‘প্রেসার কুকার বোমা’ নিষ্ক্রিয় :

ঢাকার সাভারে একটি মসজিদের মাঠ থেকে উদ্ধার করা কালো স্কচটেপে মোড়ানো শক্তিশালী ‘প্রেসার কুকার বোমা’ সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে পুলিশ. গতকাল বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৩টা ২৮ মিনিটে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে. বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় এক বিকট শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) গভীর রাতে সাভারের সাধাপুর গোপের বাড়ি এলাকার ‘লালটেক ঘোড়া মসজিদ’ প্রাঙ্গণে তিন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি অটোরিকশায় করে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম রেখে পালিয়ে যায়. বুধবার সকালে স্থানীয়রা ড্রামটি খুলে তার ভেতরে জামাকাপড়, একটি কোরআন শরিফ এবং কালো স্কচটেপে মোড়ানো একটি ভারী প্রেসার কুকার দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় তারা প্রেসার কুকারটি ড্রাম থেকে বের করে মসজিদের পাশের একটি খালি মাঠে রাখেন এবং জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করে পুলিশকে জানান।
খবর পেয়ে সকাল ৮টার দিকে সাভারের ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্প ও সাভার মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়. তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানটি ঘিরে ফেলে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেয়।পরে দুপুর পৌনে ২টার দিকে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়.বিশেষজ্ঞ দলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত করে যে, এটি একটি অত্যন্ত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তাজা বোমা। এরপর বিকেল ৩টা ২৮ মিনিটে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে মাঠের ভেতরেই দূর নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে বোমাটি ফাটানো হয়. বিস্ফোরণের তীব্রতায় ৫০০ মিটার দূর পর্যন্ত এলাকা কেঁপে ওঠে এবং আকাশে সাদা ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। বিকেল ৪টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে বিশেষজ্ঞ দলটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়।
সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, “উদ্ধার হওয়া বস্তুটিকে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি বোমা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। আশপাশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো এলাকা খালি করে এটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
”আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, সাভারের কাছেই শ্যামপুর এলাকায় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের চলমান জঙ্গি-বিরোধী অভিযানের সাথে এই প্রেসার কুকার বোমার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে. কারা, কী উদ্দেশ্যে জনাকীর্ণ মসজিদের পাশে এই ভয়াবহ বিস্ফোরক রেখে গিয়েছিল, তা শনাক্ত করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করেছে. এই ঘটনায় সাভার এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে.
