কাউনিয়া মীরবাগ ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগে সরকারী দুই দপ্তরের দুই আদেশ, প্রশাসনিক জটিলতায় শিক্ষার পরিবেশ হুমকির মুখে

0
27-07-2266

কাউনিয়া( রংপুর)প্রতিনিধি
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মীরবাগ ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ পদকে কেন্দ্র করে একের পর এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নতুন জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে| একই পদে একদিকে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের চাকরির মেয়াদ এক বছর বাড়িয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চল| এতে শিক্ষার পরিবেশ হুমকির মুখে|

সংশ্লিষ্ট-নথিপত্র, প্রশাসনিক আদেশ এবং শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধ্যক্ষ আ.কা. মো. জয়নুল আবেদীনের চাকরির নির্ধারিত বয়সসীমা পূর্ণ করে অবসরে যান| অবসরের মাত্র সাত দিন আগে গভর্নিং বডির এক সভায তাঁর চাকরির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানোর প্রস্তাব গ্রহীত হয় এবং তা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়| তবে আবেদনটি বিধি অনুযায়ী না হওয়ায় তা নামঞ্জুর করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক দপ্তর|

এরপর কলেজ পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের জন্য মাউশি রংপুর অঞ্চলের পরিচালকের কাছে তদন্তের আবেদন করা হয়| তদন্ত দল কলেজে গিয়ে প্রশাসনিকসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে| তদন্ত চলাকালে অধ্যক্ষের পদ শূন্য থাকায় এমপিও-সংক্রান্ত পাসওয়ার্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) রংপুর অঞ্চল|

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রংপুর অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. আমির আলীর জারি করা আদেশে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এর অনুচ্ছেদ ১৩ অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ শাহজাহানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন| একই সঙ্গে কলেজ পরিচালনা পর্ষদকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে আদেশ বাস্তবায়ন করে সরকারি সকল শিক্ষা দপ্তরকে জানাতে বলা হয়| কিন্তু নির্দেশ দেওয়ার পরের দিনেই, ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদন ক্রমে নাজিম উদ্দিন আহমেদ,কলেজ পরিদর্শক ভারপ্রাপ্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষরিত পৃথক আদেশে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আ.কা. মো. জয়নুল আবেদীনের চাকরির মেয়াদ এক বছরের জন্য বৃদ্ধি করে|

এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে| কারণ, এর আগেই কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. সেকেন্দার আলী উপাচার্যের কাছে লিখিতভাবে দাবি করেন, চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ˆবধ আবেদনও পাঠানো হয়নি| তাঁর আবেদন অনুযায়ী, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ নেই| তিনি এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনারও অনুরোধ জানান|
এদিকে দুটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ফলে এমপিও ব্যবস্থাপনাও স্থবির হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে| শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, এমপিও পাসওয়ার্ড এখনো ফ্রিজ অবস্থায় থাকায় প্রশাসনিক ফাইল নিষ্পত্তি, আর্থিক কার্যক্রম এবং নিয়মিত দাপ্তরিক কাজও ব্যাহত হচ্ছে|এই সিদ্ধান্তের

অধ্যক্ষ আ.কা. মো. জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষায় অনিয়মকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিকের দায়ের করা মামলাসহ নানা অনিয়মের বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে|

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের মনোনীত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে মনোনীত করে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রজ্ঞাপন পাঠানো হয়েছে| তবে এখন পর্যন্ত কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য কোনো নির্দেশনা দেয়নি|”

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে অধ্যক্ষ আ.কা. মো. জয়নুল আবেদীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোন উত্তর না দিয়ে মোবাইল কেটে দেন|
কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. সেকেন্দার আলী বলেন, অধ্যক্ষ পদকে কেন্দ্র করে একের পর এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে কলেজে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তাই এ বিষয়ে উদ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সমাধান চান তিনি|
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মো. গোলাম মাজেদ বলেন, “কলেজে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে| তদন্তের মাধ্যমে বিষয়গুলো যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে|”

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, “মীরবাগ ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আ.কা. মো. জয়নুল আবেদীনের চাকরির মেয়াদ এক বছরের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে|” একই পদে দুই দপ্তরের পৃথক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যিনি ওই নিয়োগ দিয়েছেন, তিনি কোন বিধির বলে দিয়েছেন, সেটি তিনিই জানেন|”
এ অবস্থায় কলেজের চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা| তাদের ভাষ্য, দ্রুত অধ্যক্ষ পদের জটিলতা নিরসন, এমপিও পাসওয়ার্ড চালু এবং কলেজে স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য উর্ধতন কতৃপক্ষের সু-দৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবকরা|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *