পীরগাছায় কিশোরীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ, দাদা-চাচার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগাছায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে পথরোধ করে উত্ত্যক্ত, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী দাদা ও চাচার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা মানিক মিয়া বাদী হয়ে দুজনকে অভিযুক্ত করে পীরগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের পূর্বদেবু এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে দুলাল মিয়া (৫৫) ও তাঁর ছেলে সুমন মিয়া (৩০)। ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসায় যাতায়াতের সময় দীর্ঘদিন ধরে দুলাল মিয়া কিশোরীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও পথরোধ করতেন। বিষয়টি কিশোরী তার বাবাকে জানালে তিনি দুলাল মিয়াকে সতর্ক করেন।
গত ৫ আগস্ট রাত ৯টার দিকে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুলাল মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছালে তিনি পেছন থেকে কিশোরীর মুখ চেপে ধরে টানাহেঁচড়া করে নির্জন স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে কিশোরী তাঁর হাতে কামড় দিলে তিনি তাকে ছেড়ে দেন। পরে কিশোরীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে দুলাল মিয়া সেখান থেকে পালিয়ে যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন ৬ আগস্ট রাতেও দুলাল মিয়া কিশোরীর বাড়ির জানালার কাছে গিয়ে নাম ধরে ডাকাডাকি করেন এবং টাকার প্রলোভন দেখানোর চেষ্টা করেন। সর্বশেষ গত ১ অক্টোবর দুপুরে মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে পূর্বদেবু এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ির সামনে আবারও কিশোরীর পথরোধ করে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, দুলাল মিয়ার ছেলে সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে কিশোরীর পরিবারকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
কিশোরীর বাবা মানিক মিয়া বলেন, “মেয়ের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে প্রথমে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি। অভিযুক্ত দুলাল আমার চাচা এবং সুমন চাচাতো ভাই। পারিবারিক সম্পর্কের কারণে শুরুতে মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু মেয়ের সঙ্গে বারবার এমন ঘটনা ঘটায় থানায় অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, দুলাল মিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও নারীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, “এ ঘটনায় ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে দুলাল মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে তাঁর ছেলে সুমন মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো হুমকি-ধমকি দিইনি। বরং বিষয়টি নিয়ে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করছি। আমার বাবা অপরাধ করে থাকলে তাঁর বিচার হবে।”
