সাংবাদিককে পথরোধ করে আটকে ভয়ভীতি-নির্যাতনের অভিযোগ, চাঁদা না পেয়ে প্রাণনাশের হুমকি
ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে নবি ওয়ালিউল্লাহ নামের এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে পথরোধ করে জোরপূর্বক আটকে রেখে হুমকি, ভয়ভীতি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার কাছে ১২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয় সাংবাদিক নবি ওয়ালিউল্লাহ-কে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে জিডির আবেদন করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক নবি ওয়ালিউল্লাহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনিয়নের ছোট জামবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জাতীয় দৈনিক অভয় নগর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) ও দৈনিক বর্তমান কথা পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এবং জে টিভির জেলা প্রতিনিধি৷
ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও জিডির আবেদন সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (১৬ আগস্ট) ভোলাহাট উপজেলা পরিষদ থেকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে বেলা ১১টার দিকে কলেজ মোড় এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিপরীতে পথরোধ করে একদল লোক। এসময় তারা সাংবাদিক নবি ওয়ালিউল্লাহকে জোরপূর্বক আটকে রাখে একটি খাবার হোটেলের পাশে। এ সময় তারা ১২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ সাংবাদিক নবি ওয়ালিউল্লাহর।
এ বিষয়ে সাংবাদিক নবি ওয়ালিউল্লাহ বলেন, কোন রকম কারণ ছাড়াই পথরোধ করে আমাকে আটকে রেখে নানা রকম হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। জনৈক আসাদুলের নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটে। এতে আসলাম ও তাদের ৬-৭ জন সহযোগী অংশ নেয়। আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হলে তারা আমাকে ছেড়ে দেয়।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময়ে চাঁদা দাবির বিষয়টি আমি মুঠোফোনে ভিডিও ধারন করে রেখেছি। পাশাপাশি পুরো ঘটনাটি আশেপাশের অনেক দোকানদার ও পথচারী দেখেছে। এ ঘটনায় আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। উপায় না পেয়ে জিডির আবেদন করেছি। আশা করছি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এ বিষয়ে ভোলাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, নবি ওয়ালিউল্লাহকে আটকে রাখার সময় আমাকে ফোন দিয়ে জানায়, তাকে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে বলছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে এটি না করতে বলি এবং পুলিশ পাঠায়। ঘটনাস্থলে পরে পুলিশ উপস্থিত হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় জিডির আবেদন যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
