কৌশলী চেকপোস্টে ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ চট্টগ্রামের ব্যক্তি গ্রেপ্তার
মো. আল-মাহফুজ শাওন:
খুলনায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে খুলনা মহানগর পুলিশ (কেএমপি)। এরই ধারাবাহিকতায় লবণচরা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৪ হাজার পিস অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. আনোয়ার হোসেন (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লবণচরা থানাধীন ঠিকরাবাদ এলাকায় খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পশ্চিম পাশে সাউথগেট রেস্টুরেন্টের সামনে কৌশলী চেকপোস্ট বসিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেন চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার দক্ষিণ কাট্টলী এলাকার সুফিয়ান কলোনি জেলেপাড়ার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মো. সিরাজ শেখ এবং মাতার নাম নুর নাহার বেগম।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কেএমপি কমিশনার মো. সাজ্জাদুর রহমানের নির্দেশনায় নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মন এবং লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেনের তত্ত্বাবধানে পুলিশের একটি দল ঠিকরাবাদ এলাকায় চেকপোস্ট ও বিশেষ নজরদারি পরিচালনা করছিল।
এ সময় সন্দেহভাজন আনোয়ার হোসেনকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে তার কাছ থেকে ৪ হাজার পিস অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো মাদক ব্যবসার উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
কেএমপি সূত্র আরও জানায়, নগরীতে মাদক সরবরাহ, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও সন্দেহজনক এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন ও ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই বিপন্ন করে না; এর ক্ষতিকর প্রভাব পরিবার, সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও পড়ে। তাই মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতাও প্রয়োজন।
চৌকস নজরদারি, পেশাদার অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে খুলনাকে মাদকমুক্ত ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কেএমপির অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
