শিল্পকলায় শিশুদের নিয়ে ‘আমি হব সকাল বেলার পাখি’

অনুষ্ঠানে নজরুল সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য ছাড়াও ছিল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনা।

shilpokola-academy-program-250826-01-1787674493

চলমান নজরুল বর্ষ উপলক্ষে শতাধিক শিশু-কিশোর শিল্পীর অংশগ্রহণে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হল সুর ও নৃত্যের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘আমি হব সকাল বেলার পাখি’।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও মানবিক বার্তা ছড়িয়ে দিতে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ৫০ জন শিশু-কিশোর সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করে উদ্বোধনী সংগীত ‘দাও শৌর্য দাও ধৈর্য’ এবং ‘শুকনো পাতার নূপুর পায়ে’। এরপর ‘প্রজাপতি, প্রজাপতি’ গানের সঙ্গে ৫০ জন খুদে শিল্পীর সমবেত নৃত্য পুরো মিলনায়তনে বৈচিত্র্য নিয়ে আসে।

পর্যায়ক্রমে মঞ্চে পরিবেশিত হয় নজরুল সংগীত, একক আবৃত্তি এবং সমবেত নৃত্য। এছাড়াও ছিল বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনা।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা ‘বনের হরিণ আয়’ গানের সঙ্গে সমবেত নৃত্য পরিবেশন করে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশু-কিশোরদের দল ‘তপস্যা’ উপস্থাপন করে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “বর্তমান সময়ে মাদকের যে ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়েছে, তা থেকে শিশুদের রক্ষা করতে নজরুল চর্চার কোনো বিকল্প নেই। শিশুদের বেশি বেশি নজরুলের গান ও কবিতা শেখান হলে তারা সুস্থ শিল্প-সাহিত্যের দিকে ধাবিত হবে।”

শিল্পকলা একাডেমির প্রতিটি আয়োজনে শিশু-কিশোরদের যুক্ত করার পরামর্শও দেন তিনি।

একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, “আমরা এমন একটি অসাম্প্রদায়িক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিশুরা নির্ভয়ে স্কুলে যাবে এবং ঘরে ফিরবে। নজরুলের ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের শিশুরাই আগামী দিনের সুন্দর পৃথিবী তৈরি করবে।”

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির শিল্পীদলসহ ‘স্পন্দন’, ‘রিদম ডান্স সেন্টার’ ও ‘সুপ্তোথিটা’ সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় সবার জন্য উন্মুক্ত এই আয়োজন।

Reporter: